যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মোরেলগঞ্জে ১৯ শয্যার ভবনে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল

সংকট থাকলেও সেবার মানোন্নয়নে তৎপর চিকিৎসকরা

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই,২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই,২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
মোরেলগঞ্জে ১৯ শয্যার ভবনে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে ১৯ শয্যার ভবনে। চিকিৎসক ও জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও রোগীদের সেবার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।

হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি গত বছরের অক্টোবর মাসে এখানে যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, এক্স-রে মেশিন চালুকরণ, প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম সচলকরণসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সাধারণ রোগীদের কাছেও তিনি আস্থা অর্জন করেছেন।

সম্প্রতি একটি মহল হাসপাতালের ওষুধ সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ডা. কামাল হোসেন মুফতি। এ বিষয়ে সোমবার রাতে হাসপাতাল কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৮০ সালের দিকে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে বর্তমানে ১৯ শয্যার ভবনেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পুরোনো ৩১ শয্যার ভবনের জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও মাঝপথে তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালে ৫১ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। এর মধ্যে সাতজন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডেপুটেশনে এবং একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ মাত্র ছয়জন চিকিৎসক সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন।

এছাড়া ৩২ জন স্টাফ নার্সের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৭ জন। নয়জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের স্থলে রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর ধরে এসব পদ শূন্য রয়েছে। একইভাবে ১৮ জন এসএমও পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন, যাদের মধ্যে ছয়জন জেলা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেপুটেশনে রয়েছেন। ২০ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ছয়জন।

দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাধারণ রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। এছাড়া অন্তর্বিভাগে নিয়মিত ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন।

হাসপাতাল থেকে রোগীদের সরকারিভাবে বিনামূল্যে ৫২ প্রকার ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল এবং দশ প্রকার সিরাপ সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) রোগীদের জন্যও নিয়মিত ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ সিফাত খান জানান, ২০২৫ সালের ১৭ জুন পর্যন্ত নিবন্ধিত এক হাজার ৬৩৭ জন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীকে প্রতিমাসে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন নতুন রোগী এসব সেবার আওতায় নিবন্ধিত হচ্ছেন।

মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, ‘হাসপাতালে ওষুধ সংকটের কোনো বাস্তবতা নেই। একটি মহল বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। ভুল তথ্য দিয়ে জনগণ ও চিকিৎসকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোগীদের সেবা দেওয়া প্রতিটি চিকিৎসকের দায়িত্ব। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোও নিয়মনীতি মেনে পরিচালিত হতে হবে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)