স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাত ৪টার দিকে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তারা ‘সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য’ যশোরের দিকে আসছিলেন বলে মনে করছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, রাজধানীর শ্যামপুরের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল, মতিঝিল এলাকার মো. শামিম এবং নোয়াখালী জেলার মো. সাফায়েত হোসেন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেকপোস্ট বসিয়ে ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিডসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ডেবিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। এলাকায় তার ছিল সাধারণ জীবনযাপন। কিন্তু কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেওয়ার পর পরই চট্টগ্রামে একের পর এক খুনে নাম জড়ায় তার। বিদেশি পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে। ডেভিড ইমন ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড।
সাজ্জাদ এখন দেশের বাইরে অবস্থান করেন। দুবাই থেকে তিনি ডেভিড ইমনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামে চাঁদার দাবিতে বাসাবাড়ি, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের মুখে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনাগুলো ডেভিড ইমনের নেতৃত্বে হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে গণমাধ্যমে বেশকিছু প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে ডেভিড ইমনকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছিল। গত দুই সপ্তাহে তাকে ধরতে ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযানও পরিচালিত হয়েছিল। এছাড়া তার বাহিনীর একাধিক সহযোগী গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক নাজিমুল হক বলেন, ‘সন্ত্রাসমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। তাকে চট্টগ্রামে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্য সহযোগীরাও আমাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। তাদেরও অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে।’
পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা, আধিপত্য বিস্তার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি তাকে ধরতে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীকেও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং হামলার ঘটনায়ও ডেভিড ইমনের নাম আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার পর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার হয়।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ডেভিড ইমনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তারা। বিশেষ করে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, অস্ত্রের জোগান, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক এবং বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য মিলতে পারে।