ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘জুলাই-৩৬’ হলে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গোপনে সহপাঠী ও হলের অন্যান্য ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনপ্রবাসী প্রেমিকের কাছে পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী তুবাউল জান্নাত ঐশী। তার বাড়ি যশোর জেলায়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে হলজুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অন্তত দশ ছাত্রীর গোপনে তোলা ছবি তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন এবং প্রমাণের জন্য কিছু স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করেছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ঐশীর একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে লন্ডনপ্রবাসী আবিদ নামে এক যুবকের কাছে তিনি নিয়মিত হলের ছাত্রীদের গোপন ও ব্যক্তিগত সময়ের ছবি পাঠাতেন। এমনকি বোরকা-নিকাব পরিহিত পর্দানশীন ছাত্রীদেরও ওড়না ছাড়া ছবি তুলে পাঠানোর প্রমাণ মিলেছে। সম্প্রতি ওই প্রবাসীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে বিষয়টি সামনে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরে প্রতিশোধ নিতে ওই প্রবাসী যুবক তার কাছে থাকা ছবিগুলো মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কাছে পাঠাতে শুরু করেন। এতে ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারেন যে, তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ঘুমন্ত অবস্থায় কিংবা কক্ষে স্বাভাবিক পোশাকে থাকা অবস্থায় গোপনে তাদের এই ছবিগুলো তোলা হয়েছিল, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, 'ছাত্রী হলের ভেতরে আমরা নিজেদের মতো স্বাচ্ছন্দ্যে থাকি, সেখানে বাইরের কারো প্রবেশের সুযোগ নেই। সেই জায়গায় নিজের সহপাঠী গোপনে ছবি তুলে বাইরে পাঠাবে, এটা ভাবাই যায় না।'
আরেকজন শিক্ষার্থী উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, 'নিজের কক্ষই যদি নিরাপদ না হয়, তবে আমরা কোথায় নিরাপদ বোধ করবো?'
ভুক্তভোগীরা ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তারা শুক্রবার (৭ আগস্ট) হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অন্য শিক্ষার্থীদের সামনে নিজের অপকর্ম স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন বলে।
জানতে চাইলে ‘জুলাই-৩৬’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, 'আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি এবং হল প্রশাসনের মধ্যে এটি নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।'