যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ড্রাগন চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন আনিসুরের

রূপক মুখার্জি

, লোহাগড়া (নড়াইল)

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১১:০০ এ এম
ড্রাগন চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন আনিসুরের

রাস্তার পাশে বিশাল ক্ষেতে শোভা পাচ্ছে ড্রাগন গাছ, তোলার মতো রয়েছে বেশকিছু ড্রাগন ফলও। বিভিন্ন জাতের প্রায় ১২ হাজার ড্রাগন গাছ রয়েছে এই জমিতে।

লোহাগড়া উপজেলার কালনা-লাহুড়িয়া মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে ৯০ শতক জমিতে ড্রাগন চাষ করেছেন মো. আনিসুর রহমান নামে একজন ব্যবসায়ী।

তিনি জানান, রেড ভেলভেট, আমেরিকান বিউটি, ভিয়েতনাম রেড, ভিয়েতনাম হোয়াইট, পলোরা জাতের ড্রাগন গাছ লাগিয়েছেন তিনি।

শহরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আনিসুর রহমান বর্তমানে ড্রাগন চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

আনিসুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে ১০ বছরের জন্য উপজেলার চাচই কেয়ারে ৯০ শতাংশ জমি লিজ নিই। এরপর চারশ’ পিলারে সাত হাজার চারা দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করি। বাগানে বর্তমানে পাঁচ জন শ্রমিক কাজ করছেন।

প্রথম বছরে এক থেকে দেড় লাখ টাকার এবং দ্বিতীয় বছর প্রায় তিন লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন তিনি।

আগামীতে কয়েকগুণ বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন। এতে কোনো ওষুধ বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। শুধুমাত্র বছরে এক থেকে তিনবার সার প্রয়োগ করতে হয়। মার্চ মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়। এখন বাগানে গড়ে প্রতি মাসে এক হাজার থেকে এক হাজার দুইশ কেজি ড্রাগন ফলের বেচাকেনা হয়। বাগানেও ড্রাগনের ফলন ভালো এসেছে। এ ফল প্রতি কেজি ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা পাইকারি বিক্রি হয়। লোহাগড়া বাজার, কালিয়া বাজার, নড়াইল সদরসহ ভাটিয়াপাড়া, কাশিয়ানী, মাগুরা ও যশোর সদরে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একবার রোপণ করা গাছ থেকে টানা ২৫ থেকে ৩০ বছর ফল পাওয়া যায়। বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষাবাদের পর থেকে লাভবান হচ্ছেন। আনিস এখন স্বপ্ন দেখছেন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার।

জয়পুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ও সুশান্ত বলেন, চারা লাগানোর এক বছরের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। পুষ্টিগুণ, আকার-আকৃতি ও দামের কারণে বাজারে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ক্যাকটাস জাতীয় গাছ হওয়ায় রোগ বালাইও কম। তাই সহজে এ ফল চাষ করা যায়।

কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি। অল্প সময়ে বাগানে ফল আসা শুরু করে, তাই এটি একটি লাভজনক চাষ।

বাগান পরিচর্যাকারী শ্রমিক মতিয়ার রহমান বলেন, এই বাগানের শুরু থেকে কাজ করছি। খুব সহজ পদ্ধতিতে বাগান তৈরি করা যায়। খুব বেশি পরিশ্রমের কাজ না। তবে সবসময় খেয়াল রাখতে হয় যেন পোকামাকড় বা রোগ বালায় গাছের কোনো ক্ষতি করতে না পারে।

বাগানে ঘুরতে আসা লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বাগানটির কথা অনেকদিন ধরে শুনছি। আজ ঘুরতে এসে খুব ভালো লেগেছে।

লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুনমুন সাহা বলেন, ড্রাগন একটি বিদেশি ও জনপ্রিয় ফল। পুষ্টিগুণ, আকার-আকৃতি ও দামের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

লোহাগড়া উপজেলায় দুই হেক্টর জমিতে ছোট বড় চারটি ড্রাগন বাগান রয়েছে। কৃষি বিভাগ এসব ফল চাষীদের সহযোগিতা করে আসছে, ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)