কারাগারে গেলেও ব্যবস্থা নেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ
খুলনা অফিস
খুলনার লবণচরা এলাকার এপিসি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর মমিনুর রহমান ওরফে মমিন হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবসার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নেওয়া ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মমিনুরের ‘মেসার্স এম এ ফার্মেসী’ নামে একটি ওষুধের দোকান রয়েছে।
মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওষুধ ব্যবসা সম্প্রসারণ ও পাইকারি ওষুধ কেনার কথা বলে ২০২৪ সালের এপ্রিল-মে মাসে কয়রার মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে তিন দফায় সাত লাখ টাকা এবং একই বছরের মে মাসে আল আমিনের কাছ থেকে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন তিনি।
ব্যবসায়িক মুনাফার পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে লভ্যাংশ বা মূল টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বাদীদের।
মনিরুল ইসলামের মামলায় আদালতের নির্দেশে পিবিআই খুলনার এসআই এস এম পলাশ হোসেন তদন্ত করে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সাক্ষ্য ও অন্যান্য নথি যাচাই শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেন।
অপর মামলায় কয়রা থানার এসআই লুৎফর রহমানও তদন্ত শেষে গত ২১ মার্চ একই ধারায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা আদালতে জানান।
এদিকে, মমিনুরের বিরুদ্ধে করা মামলার একটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন। গত ২৪ আগস্ট জামিনের মেয়াদ শেষ হলে কয়রার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। পরে দেড় লাখ টাকা পরিশোধের বিনিময়ে মামলা তুলে নেওয়া হলে তিনি জামিন পান বলে বাদী মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মমিনুর পাওনাদারদের বিরুদ্ধেও মামলা করেছেন। এর মধ্যে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় খুলনা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মমিনুর রহমান এ প্রতিবেদকের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং এ বিষয়ে তাকে কেন ফোন করা হয়েছে, তা জানতে চান।
খুলনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান বলেন, কোনো চাকরিজীবী কারাগারে গেলে তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিধান রয়েছে।
মমিনুরকে স্কুল কর্তৃপক্ষ কেন বরখাস্ত করেনি এবং বিষয়টি শিক্ষা দপ্তরকে কেন জানানো হয়নি, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।