খুলনা অফিস
নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে মারধরের পর ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে খুলনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নগরীর সোনাডাঙ্গা ট্রাফিক মোড় ও আশপাশের সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার সামনেও অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এতে সোনাডাঙ্গা এলাকার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নাম ও ছবি প্রকাশ করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে এবং প্রয়োজনে থানাও ঘেরাও করা হবে বলে ঘোষণা দেন তারা।
আন্দোলনের মধ্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি পুলিশকে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে আধা ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নজর রাখার ব্যবস্থা করার কথা জানান।
নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবু জায়েদ বলেন, তাদের জুনিয়র ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আজমুলকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তার ভাষ্য, অনুমতি ছাড়া একটি খাবার খাওয়ার অভিযোগে আজমুলকে মারধর করা হয়। পরে তার মা-বাবার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আবু জায়েদ প্রশ্ন করেন, একটি খাবারের দাম কি এক লাখ টাকা হতে পারে? চুরি করলেও মৃত্যুদণ্ড কোনো শাস্তি হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষার্থী সিন্ধ বলেন, খাবার খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এটাই পুরো ঘটনার কারণ হতে পারে না। এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তিনি।
আরেক শিক্ষার্থী হানজালা বলেন, এক বেলার খাবারের জন্য কাউকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং পরে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগের সামগ্রিক বিচার চান তারা।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী সাফুরা রহমান লিলি বলেন, আজমুল নিজে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তার চুল কেন কাটা হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করতে হবে।
নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল বলেন, ভাত চুরির অভিযোগে আজমুলকে বেধড়ক মারধর করে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, ঘটনার প্রাথমিক তথ্য থেকে এমনটাই প্রতীয়মান হচ্ছে। তার দাবি, ঘটনাটি একজনের কাজ নয়; একাধিক শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতার বিষয় সামনে এসেছে। ঘটনাস্থলে আজমুলের চুল পড়ে থাকতে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলেও জানান তিনি।
উপাচার্য বলেন, তারা অমানবিক নির্যাতন ও শিক্ষার্থী হত্যার তীব্র নিন্দা জানান। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যকর করার দাবি জানান তিনি। ঘটনার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা পুলিশের একটি কাভার্ড ভ্যানও আটকে দেন। তবে অসুস্থ রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে সুযোগ দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভ চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আজমুল হত্যায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার ঘোষণা দেন তারা।