স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ১০৬ জন জানেন না কী কারণে তারা নিয়োগবঞ্চিত হয়েছেন।
শনিবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে তারা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে জানতে চান।
এদিকে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে পেয়ে ‘নিয়োগবঞ্চিতরা’ ঘিরে ধরেন এবং তারা অভিযোগ পেশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দাঁড়িয়ে পড়েন এবং তাদের কথা শোনেন। এই বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে জেলা প্রশাসককে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
মণিরামপুরের ঝাঁপা গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫ এর পরীক্ষা হয় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। ২৯০টি পদের বিপরীতে কয়েক হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। ২৬ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ধাপে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা হয়। সব পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৯০ জন চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হন। কিন্তু পরবর্তীতে চূড়ান্ত নিয়োগ পান ১৮৪ জন। বঞ্চিত হন ১০৬ জন।
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সরকারি ওয়েবসাইটে যশোরে ১৮৪ জনের নামের তালিকা প্রকাশ হয়। বাকি ১০৬ জনের নাম তালিকায় নেই। ফলে, যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। কী কারণে বঞ্চিত হলেন তা তারা জানেন না।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ‘নিয়োগবঞ্চিত’ ওই ১০৬ জন হাজির হন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে।
মণিরামপুরের কুচলিয়া গ্রামের রোহিত বিশ্বাস বলেন, তাদের কয়েকজন জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করেন এবং এ বিষয়ে জানতে চান। কিন্তু জেলা প্রশাসক জানিয়ে দিয়েছেন তিনি নিয়োগ বোর্ডের যশোর জেলার সভাপতি। কিন্তু চূড়ান্ত ফয়সালা হয় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে। কেন ১০৬ জন বঞ্চিত হলেন এ বিষয়টি তার জানা নেই।
শার্শার মুসলিমা আক্তার, ভবানীপুর গ্রামের ঊর্মি বিশ্বাস, চৌগাছার জগন্নাথপুর গ্রামের আবু মুসা বলেন, যশোরে ‘নিয়োগবঞ্চিত’ ১০৬ জন আট উপজেলায় আছেন। তারা চূড়ান্ত নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্ত সরকারি ওয়েবসাইটে নাম না পাওয়ায় হতাশ হন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি যশোর জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলার। সে কারণে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসেছেন।
তারা শুনেছেন, গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। কিন্তু কারা কীভাবে রিপোর্ট করলো? কার কী অপরাধ পেলো- কিছুই জানতে পারেননি তারা।
‘নিয়োগবঞ্চিত’ ১০৬ জনকে শনিবার সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ে একটি মিটিংয়ে আসবেন জানতে পেরে তারা প্রতিমন্ত্রীর সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
বেলা ১২টার দিকে তিনি দুর্গাপূজা প্রস্তুতিসভায় যোগ দিতে যান। সে সময় জেলা প্রশাসকও সাথে ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আমার ভাই-বোন সন্তানের মতো। আপনাদের কষ্টের কথা বুঝেছি। আমি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।’