কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ-যশোর ছয় লেন মহাসড়কের জন্য অধিগ্রহণ করা স্থাপনার কালীগঞ্জের অংশের ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ীকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, একই প্রকল্পের অধীন যশোর অংশের ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এতে কালীগঞ্জের প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী ও আড়াই হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর জীবিকা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়ে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শনিবার সকালে কালীগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির অফিসে কালীগঞ্জ ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ব্যবসায়ী ও শ্রমিক ঐক্য আন্দোলন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণে উই কেয়ার ফেজ-১ প্রকল্পের আওতায় কালীগঞ্জ অংশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ ভূমিমালিক তাদের জমি ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে না।
ক্ষতিপূরণের দাবিতে তারা গত বছরের ১৭ আগস্ট, ২৩ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ২ মার্চ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করেছেন। কিন্তু, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই তাদের শুনানি মুলতবি রেখেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ীরা আরো উল্লেখ করেছেন, স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিধান রয়েছে। সেই আইনে একই প্রকল্পে যশোর অংশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ অংশের ব্যবসায়ীদের দিচ্ছে না। এজন্য ব্যবসায়ীদের দাবি ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত ভূমি মালিকদের স্থাপনা অপসারণ বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি গত ১৬ জুলাই ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের ২০ আগস্টের আদেশ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।
আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক সাবেক পৌর কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, নবচিত্র পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী নেতা সামসুল ইসলাম, প্রথম আলোর প্রতিনিধি আজাদ রহমান, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ হুসাইন, আজিজুর রহমান তপন, মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।