স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিভিন্ন অপরাধে আটক চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন যশোরের একদিনের বিচারিক আদালত।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল মামলার শুনানি শেষে আলাদা রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাদিক, শংকরপুর চোপদারপাড়ার সিরাজের ছেলে সোহাগ, সদরের রাজাপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে শাকিব হোসেন ও বাঘারপাড়ার আরজী বাসুয়াড়ী গ্রামের কাজী আমিনুর রহমানের ছেলে কাজী আরমান।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, সাদিক দীর্ঘদিন ধরে অসৎ সঙ্গ জড়িয়ে মাদক সেবন ও জুয়া খেলার জন্য মায়ের কাছে টাকা দাবি করে আসছিলেন। গত ২৭ তারিখ সকাল ১০টার দিকে নেশার টাকা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারপিট করেন। একপর্যায়ে সাদিক চাকু নিয়ে মায়ের দিকে তেড়ে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং বাড়িতে ভাঙচুর করেন।
এ ঘটনায় সাদিকের মা ফাতেমা খাতুন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিককে আটক ও প্রতিবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করে। আদালতে মায়ের উপস্থিতিতে সাদিক এই ধরনের অপরাধ আর করবেন না বলে প্রতিশ্রতি দেন। প্রতিবেদনের ওপর শুনানি ও আসামি দোষ স্বীকার করায় বিচারক তাকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ শহরের শংকরপুর মুরগির ফার্ম রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহাগকে আটক ও গাঁজা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আটক সোহাগের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে প্রতিবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়। শুনানি শেষে আসামি দোষ স্বীকার করায় বিচারক তাকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
যশোরের ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার ভোরে চাঁচড়া-ধর্মতলা রোডের জনৈক ইয়াকুবের চায়ের দোকান এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় শাকিব হোসেনকে আটক ও তার কাছ থেকে ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দিয়ে প্রতিবেদনসহ শাকিবকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারক অভিযোগের শুনানি ও আসামি দোষ স্বীকার করায় তাকে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড, দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
এছাড়া, বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সনু ব্যাপারির বাড়ির সামনের বাঁধ এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পালিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া করে কাজী আরমানকে আটক ও তার কাছ থেকে দুই পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দিয়ে প্রতিবেদনসহ কাজী আরমানকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
অভিযোগের শুনানি ও আসামি দোষ স্বীকার করায় বিচারক তাকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত সকলে কারাগারে আটক আছে।