অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়ায় মধুমতী নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে তেলকাড়া, করগাতি ও রায়পাশা এলাকার নদীপাড়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাসহ কয়েকশ’ মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মধুমতী নদীর ভাঙনে কোটাকোল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তেলকাড়া, করগাতি ও রায়পাশা এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় এসব এলাকায় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ পরিবারের বসতবাড়ি ছিল। ভয়াবহ নদীভাঙনে এসব পরিবারের অনেকের ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নিঃস্ব হয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ছত্তার মোল্লা, ইসলাম ফকির, আলিম মোল্লা, হাই মোল্লা, রসুল মোল্লা, মির্জা খাঁ, রেজন খাঁ, রহিমন, খলিল, শাহিন সিকদার, আব্বাস, আকরাম, জাফর খাঁ ও মান্নান মোল্লা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনে তেলকাড়া কারিকরপাড়া মসজিদ ও তেলকাড়া নতুন বাড়ি মসজিদ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া তেলকাড়া শেখপাড়া জামে মসজিদ, তেলকাড়া সিকদারপাড়া জামে মসজিদ ও তেলকাড়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
এদিকে করগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার সড়ক, তেলকাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা ভাঙনের কবলে পড়েছে। পাশের বড়দিয়া এলাকাতেও নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এখনই নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অল্প সময়ের মধ্যে আরও বহু পরিবার, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মধুমতীর গর্ভে চলে যেতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত নদীশাসন ও ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
পরে এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।