খুলনা অফিস
সুন্দরবনে যৌথ বাহিনীর তীব্র অভিযানের মুখে 'আলিফ বাহিনী'র দুটি গ্রুপের ১৫ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে লুকিয়ে রাখা ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭৪ রাউন্ড তাজা গুলি, ২৩টি খালি কার্তুজ, সাতটি ওয়াকিটকি ও ছয়টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার করেছে এসআরবি-৬।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে খুলনায় এসআরবি-৬ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর উপঅধিনায়ক মেজর মো. নাজমুল ইসলাম এই তথ্য জানান।
মেজর নাজমুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মুখে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ায় জলদস্যুরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ৯ অক্টোবর আড় পাঙ্গাসিয়া নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে আলিফ বাহিনীর ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতি বিবেচনা করে দুই দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে বনের বিভিন্ন স্থানে তিন-চার মাস আগে পুঁতে রাখা অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলো উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সুন্দরবনের বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২ মার্চ থেকে কোস্ট গার্ড, এসআরবি, নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে 'অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন' নামে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়।
মেজর নাজমুল ইসলাম আরও জানান, আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হবে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা, কয়রা, দাকোপ ও পটুয়াখালী এলাকার অস্ত্র সরবরাহকারী ও চাঁদা আদায়কারীদের নাম-পরিচয় সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
অপরাধের পথ ছেড়ে অন্যদেরও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, অন্যথায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।