সুবর্ণভূমি ডেস্ক
সৌদি আরবে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার জেরে গত চার দিনে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক বার্তায় জানায়, বাতিল বা স্থগিত হওয়া ১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। গত শনিবার থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফ্লাইট বাতিলের এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজ ও সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৭টি করে ফ্লাইট রয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ ও সালামএয়ারের ৭টি করে, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি এবং ইজিপ্টএয়ারের ১টি ফ্লাইট রয়েছে।
এই যাত্রীদের বিভিন্ন দেশে ট্রানজিট নিয়ে রিয়াদ ও দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো ঢাকা থেকে যাত্রী বহন করেনি।
এদিকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশসহ অন্যান্য এয়ারলাইনস যাত্রীদের বিকল্প বিমানবন্দরে নামানোর জন্য টিকিট পরিবর্তন করে দিচ্ছে। তবে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের টিকিট পরিবর্তন করে মদিনা ও জেদ্দায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও নতুন রুটে আসন সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফলে টিকিট বদলে নিলেও অনেকে তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রা নিশ্চিত করতে পারছেন না। পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ।
বর্তমানে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং দাম্মাম কিং ফাহাদ বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এই দুটি বিমানবন্দরে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
তবে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে সপ্তাহের শুরুতে ফ্লাইট চলাচল কিছুটা ব্যাহত হলেও এখন সচল রয়েছে।
বিমানের একজন কর্মকর্তা জানান, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে, তাদের বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে আগে থেকে বুকিং থাকায় আসন খালি থাকা সাপেক্ষেই টিকিট পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে।
বিমানের কোনো আসন যেন খালি না যায়, সেজন্য কখনো কখনো ওভারবুকিং করা হচ্ছে। ফলে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পরও কিছু যাত্রীকে ফেরত আনার ঘটনা ঘটেছে, যাদের পরবর্তী ফ্লাইটে পাঠানো হচ্ছে।