স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়ার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত রহিম উদ্দিনকে ধরতে গিয়ে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় ১৩ জনের নামে মামলা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলায় মাদক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম রনিকে আটক করেছে।
এসআই আলমগীর হোসেন গত শনিবার গভীর রাতে থানায় মামলাটি করেছেন। রবিউল ইসলাম রনি চাঁচড়া রায়পাড়া তুলাতলা এলাকার কামরুল ইসলাম বাবুর ছেলে।
অন্যদিকে রহিম উদ্দিনকে আসামি করে আরও একটি মামলা করেছে পুলিশ। রহিম রায়পাড়া জামতলা এলাকার মৃত নান্নু শেখের ছেলে। অন্য আসামিরা হলো, রবিউল ইসলাম রনির স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন, রহিম উদ্দিনের স্ত্রী দুলারী খাতুন, শংকরপুরের দুলালের স্ত্রী নুরী, রায়পাড়ার মুদি দোকানদার খলিল, আশ্রম রোড মোটর গ্যারেজ এলাকার রেজাউল, রায়পাড়ার মকবুলের ছেলে রাজু, একই এলাকার কাজল রেখা, মিন্টু, খলিলের স্ত্রী কোহিনুর, মানিকের স্ত্রী পারুল, জাহাঙ্গীরের স্ত্রী পান্না এবং মিন্টুর স্ত্রী জেসমিন। এছাড়া অজ্ঞাত ৪০/৫০ জনের নামে মামলা হয়েছে।
এজাহারে এসআই আলমগীর হোসেন উল্লেখ করেছেন, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে তিনি গোপন সূত্রে জানতে পারেন চাঁচড়া রায়পাড়া জামতলা এলাকার রহিমের বাড়ির সামনে মাদকদ্রব্য কেনা-বেচা হচ্ছে। রহিমকে আটক করার জন্য তিনি বিকেল তিনটার দিকে সেখানে যান। সে সময় পুলিশ দেখে রহিম একটি পোটলা ফেলে পালিয়ে যায়। ওই পোটলা থেকে একশ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। তিনিসহ পুলিশ ফোর্স সকলে রহিমকে আটকের জন্য অভিযান চালান। সে সময় উল্লিখিত আসামিরা পুলিশকে বাধা দেয়। তারা মব সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা কনস্টেবল ইরফান আলীকে চড়, লাথি, ঘুসি মারে। তাকে মাটিতে ফেলে দেয়। সংবাদ পেয়ে এসআই জাবেদ আলী গাড়ি নিয়ে আরও ফোর্স নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলে তারা ওই গাড়ির ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। পরে সেখান থেকে রবিউল ইসলাম রনিকে আটক করা হলেও অন্যারা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ খোঁজখবর নিয়ে আসামিদের নামে মামলা করেন।
এসআই আলমগীর হোসেন আরও জানিয়েছেন, ‘শনিবারের ঘটনায় পলাতক রহিমকে আসামি করে একটি মামলা এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আরও একটি মামলা হয়েছে।’ পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আটক রনিকে রোববার (১৮ অক্টোবর) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রনি বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মারামারি, অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন আইনে ৬টি মামলা চলমান আছে।