যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

শামীমকে পিটিয়ে হত্যার পর গ্রেপ্তার আমিনী বললেন, অনুতপ্ত নই

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ : রবিবার, ১৮ অক্টোবর,২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
আপডেট : রবিবার, ১৮ অক্টোবর,২০২৬, ০৯:০১ পিএম
শামীমকে পিটিয়ে হত্যার পর গ্রেপ্তার আমিনী বললেন, অনুতপ্ত নই

পিটিয়ে মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত হয়ে গেছে। সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তারের পর সাংবাদিকদের কাছে এমন দাবি করেছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনুতপ্ত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনুতপ্ত নই।’

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে কালিগঞ্জ উপজেলা থেকে আমিনীকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৬। পরে রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে তাকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

থানায় হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনী বলেন, ‘আইনের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী। যে কাজটি করেছি, আপনারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। আল্লাহ পাক ফয়সালা করবেন। পিটিয়ে মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত হয়ে গেছে।’

শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অনুতপ্ত কিনা, জানতে চাইলে আমিনী বলেন, ‘অনুতপ্ত নই। সে যে ওভাবে নাস্তিক ছিল, আমরা ধারণা পাইনি। বিভিন্ন দেশ থেকে নাস্তিকেরা যেভাবে মোবাইল করে হুমকি দিয়েছে, তাতে নিশ্চিত হয়েছি, সে নাস্তিক ছিল।’

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম শাহীন বলেন, ‘ফজলুল হক আমিনী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ কারণে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে পুলিশ।’

গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সাতক্ষীরার দেবহাটায় ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে দুই দফায় সংঘবদ্ধ পিটুনি দেওয়া হয়। প্রথমে স্থানীয় একটি বাজারে তাকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ওই রাতেই একদল লোক হাসপাতালে ঢুকে তাকে আবারও মারধর করে। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় মাদরাসা শিক্ষায় সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী শামীমকে।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আবদুল জলিল ১৫ অক্টোবর দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দশজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। ফজলুল হক আমিনী মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি। এ মামলায় প্রধান আসামি আমিনীসহ এজাহারভুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওয়াহিদুজ্জামান শামীম মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তার কথাবার্তায় কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে থাকলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ ছিল। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হলো কেন, সেই প্রশ্নও তোলে পরিবার।

এসআরবি-এর সিপিসি-১, সাতক্ষীরার কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মুহাম্মদ যিয়াদ জানান, ‘সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে এসআরবি-৬-এর চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)