ক্রীড়া ডেস্ক
কাঁধের ল্যাবরাম টিয়ারে আক্রান্ত বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা। চোটের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে খেলা হচ্ছে না এই গতিতারকার।
আগামী নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে নাহিদের চোটের বিষয়টি জানানো হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার কাঁধের ল্যাবরাম টিয়ার শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক কর্মকর্তা।
নাহিদের চোটের সূত্রপাত গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে। ১৭ জুলাই সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত হওয়ার আগে তার শিনের হাড়েও সমস্যা ছিল।
এসব চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে খেলতে পারেননি তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজেও মাঠে নামা হয়নি তার।
আগস্টের শেষ দিকে পুনর্বাসন শেষে বোলিং শুরু করেন নাহিদ। ধীরে ধীরে বোলিংয়ের চাপ বাড়িয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
তবে পুনর্বাসনের শেষ পর্যায়ে কোমরের নিচের অংশ ও নিতম্বে অস্বস্তি দেখা দেওয়ায় তার প্রত্যাবর্তন আবারও পিছিয়ে যায়।
স্ক্যানে নতুন কোনো গুরুতর চোট ধরা না পড়লেও বোলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ফিরে না পাওয়ায় নাহিদের পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয় বিসিবিকে।
পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং দ্বিতীয় মতামত নিতে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কাঁধের ল্যাবরাম টিয়ার ধরা পড়ে।
অস্ট্রেলিয়ায় নাহিদকে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে তার বোলিং শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্রিকবাজকে বিসিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘হ্যাঁ, ল্যাবরাম টিয়ার ধরা পড়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় তাকে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে সে বোলিং করতে পারে।’
চোটের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দলেও জায়গা হয়নি নাহিদের। এবার পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে তার।
আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শুরু করবে বাংলাদেশ। এই সফরে দুটি টেস্টের পাশাপাশি তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে দল।
তবে সফরের প্রথম টেস্টে নাহিদের খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আপাতত আশাবাদী নয় বিসিবি। দ্বিতীয় টেস্টে তার অংশগ্রহণ নির্ভর করবে পুনর্বাসনের অগ্রগতির ওপর।
সেখানেও খেলতে না পারলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে এই পেসারের।