আমিনুর রহমান মামুন
১.
যশোরের মাটি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ। সেই মাটি থেকেই এখন থেকে এক বছর আগে যাত্রা শুরু করে দৈনিক সুবর্ণভূমি। সেই হিসাবে পত্রিকাটি দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করলো। একটি সংবাদপত্রের জীবনে এক বছর একেবারে সামান্য সময়। বলা যায়, পত্রিকাটি শৈশবের ধাপ অতিক্রম করছে। এই এক বছরে সুবর্ণভূমি নিশ্চয়ই অনেক কিছু দেখেছে, শিখেছে আবার শিখিয়েছেও। অর্জিত সাফল্যে পেয়েছে ভালোবাসা, আবার হয়েছে সমালোচনাও। এটাই স্বাভাবিক। কারণ একটা সংবাদপত্র এক দিনে তৈরি হয় না। সময়, শ্রম, মেধা ও মানুষের আস্থা দিয়ে ধীরে ধীরে তার ভিত শক্ত হয়। আবার ভুল থেকে শেখে। এভাবেই ঠাঁই করে নেয় পাঠকহৃদয়ে।
২.
সুবর্ণভূমি শুধু একটি দৈনিক পত্রিকা নয়, এটি হয়ে উঠুক সব মানুষের মুখপত্র। সেই সাথে হয়ে উঠুক একটি আদর্শ কর্মক্ষেত্র, সম্ভাবনা ও স্বপ্নের নাম; যেখানে কাজ করার সুযোগ পাবেন নতুরা। সময়ের ব্যবধানে তারাও হয়ে উঠবেন সমৃদ্ধ মানুষ। সংবাদমাধ্যম নিয়ে যশোরের যে সুনাম রয়েছে তারা সেই সুনামকে নিয়ে যাবেন আরও উচ্চতায়। সুবর্ণভূমি কি সেই পথ ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে? উত্তর মিলবে ভবিষ্যতে, পাঠক সমাজের কাছেই।
৩.
একটি সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড়ো সম্পদ তার অবকাঠামো বা বাহ্যিক চাকচিক্য নয়। তার সবচেয়ে বড়ো সম্পদ হলো পাঠকের আস্থা। সেই আস্থা অর্জন করতে হলে মানুষের কথা বলতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে হবে। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে হবে। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার সক্ষমতা ও মানসিকতা দুটোই থাকতে হবে। আবার ভালো কাজের প্রশংসাও করতে হবে। সুবর্ণভূমির কাছে প্রত্যাশা ঠিক তেমনই।
৪.
সুবর্ণভূমি যেহেতু যশোরের কাগজ, তাই যশোরের সাধারণ মানুষের কথা আরও বেশি করে উঠে আসুক এর পাতায়। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, তরুণ, নারী—সব শ্রেণির মানুষের জীবন ও স্বপ্নের কথা থাকুক এখানে। সাংবাদিকরাওবা বাদ যাবেন কেন, তারাও যেহেতু সমাজের দায়িত্বশীল অংশ, তাদের সুখ-দুঃখ, বেদনা-বঞ্চনার কথাও তুলে ধরা যেতে পারে। সংবাদপত্র যেহেতু সমাজের আয়না, সেই আয়নায় সবার ছবিই তো ভেসে ওঠা উচিত ।
৫.
সুবর্ণভূমির প্রধান সম্পাদক অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার, সুচিন্তিত ও প্রজ্ঞাবান মানুষ। তিনি শুধু একজন ভালো বক্তা নন, একজন সুলেখকও। সেই সাথে তার টিমে যুক্ত আছেন বেশ কয়েকজন মেধাবী এবং দক্ষ সাংবাদিক; যাদের নিউজসেন্স উচুমানের। সেই সাথে তরুণদের মধ্যে এমন কয়েকজন রয়েছেন, যারা সাফল্য দেখাচ্ছেন। এই টিমের স্পৃহা এবং সম্মিলিত চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও লেখনি পত্রিকাটিকে আরও অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার শক্তি রাখে। তাই সুবর্ণভূমির সফল না হওয়ার কারণ দেখি না।
যদিও সুবর্ণভূমির বয়স মাত্র এক বছর । এখন বিচার করার সময় নয়, প্রত্যাশা করার সময়। এখন প্রশ্ন তোলার সময় নয়, সাহস জোগানোর সময়। এখন থেমে যাওয়ার সময় নয়, আরও দূরে যাওয়ার সময়। সুবর্ণভূমিকে সেই দূরে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করতে হবে।
৬.
সব পত্রিকার একটা নিজস্বতা থাকে। সংবাদপত্রে সমৃদ্ধ শহর যশোরে সুবর্ণভূমি একটি নিজস্ব ধারা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। স্থানীয় সংবাদকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া যার একটি। অপরটি হলো, এর গেটআপ-মেকআপ। যশোরের বেশিরভাগ দৈনিকের গেটআপ-মেকআপ অনেকটা একই ধরনের। সেখানে ভিন্নতা নিয়ে এসেছে সুবর্ণভূমি। হয়তো তারই অংশ হিসাবে সুবর্ণভূমি আগে বেশির ভাগ ছবিতে ক্যাপশন দিতো না। ছবির ক্যাপশন থাকা জরুরি। একটি ছবি হাজার অক্ষরে লেখা সংবাদের চেয়েও বেশি কথা বলে। সংবাদপত্র যেহেতু সবশ্রেণির মানুষ পড়ে, তাই ছবিতে ক্যাপশন থাকা বাঞ্ছনীয়। ক্যাপশন থাকলে ছবির ভাষা কী, তা সহজে বোঝা যায়।
৭.
সুবর্ণভূমি—নামটির মধ্যেই একটি স্বপ্ন আছে। একটা প্রত্যাশা আছে, আছে সমৃদ্ধির কথা। সুবর্ণভূমি মানে শুধু সোনার মাটি নয়, যে মাটিতে সম্ভাবনার বীজ বোনা যায়, যে মাটিতে স্বপ্ন বেড়ে ওঠে, যে মাটি মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস দেয়— সেই মাটিই তো সুবর্ণভূমি। তাই নামের মতোই সত্যিকারের সুবর্ণভূমি হয়ে উঠুক যশোরের সংবাদপত্রজগতের এক সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।
৮.
আগামী দিনে সুবর্ণভূমি আরও শক্ত হোক। আরও সমৃদ্ধ হোক। আরও মানুষের কাছে পৌঁছাক। শুধু সংবাদ প্রকাশের জায়গা নয়, এটি হয়ে উঠুক নতুন সাংবাদিক, লেখক ও সংবাদকর্মীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ঠিকানা।
প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সম্পাদক ও প্রকাশকসহ সুবর্ণভূমি পরিবারের প্রতি রইলো আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। মানুষের আস্থায় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠুক সুবর্ণভূমি।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক