যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

অন্তর্বর্তী সরকারের এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল

স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল,২০২৬, ০৫:০০ এ এম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল,২০২৬, ০৫:০৮ এ এম
স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

সংসদে উত্থাপন না হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা কার্যকারিতা হারিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারী করা মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ। এ বিষয়ে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, মূলত গুমের নির্দেশনাদাতা হিসাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়মুক্তি দেওয়া এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সরকারের অনুমোদন ছাড়া কমিশনের তদন্ত ও গ্রেফতার করার ক্ষমতা রহিত করতেই অধ্যাদেশটি সরকার সংসদে উত্থাপন করেনি। পর্দার আড়ালে এটিই প্রধান কারণ। যদিও সরকার এসব অভিযোগ মানতে নারাজ। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আরও যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সময়ে সংশোধিত শক্তিশালী বিল আনা হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসাবে ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এতে গুমের নির্দেশনাদাতা হিসাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা এবং সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তসহ প্রয়োজনে গ্রেফতার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়। এছাড়া সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা যাতে সত্যিকারভাবে কাজ করতে পারেন, অধ্যাদেশে সেসব এখতিয়ার যুক্ত করা হয়।

এদিকে অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় নবগঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে কমিশনের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানসহ সব সদস্য ইতোমধ্যে তাদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সোমবার এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে খোলা চিঠি দিয়েছেন তারা। এতে অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকারের তুলে ধরা যুক্তির বিষয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মানবাধিকার কমিশনের সদ্য সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, কী কারণে অধ্যাদেশ বাতিল করা হলো, তা বোধগম্য নয়। তবে তিনি মনে করেন, অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হলে ভালো হতো। ইতোমধ্যে তারা যে খোলা চিঠি দিয়েছেন, তাতে এসবের পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে সরকারি দলের সংসদ-সদস্যদের আপত্তি হচ্ছে-জারীকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী কমিশন কোনো মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেই। ফলে কমিশনের তদারকি কীভাবে হবে। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের আগে সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়া এবং কমিশনের সদস্য বাছাই কমিটিতে সরকারের আরও প্রতিনিধি থাকা প্রয়োজন।

তবে সরকারের এসব যুক্তি খণ্ডন করে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত তিনজন বিরোধী দলীয় সংসদ-সদস্য যথাক্রমে মজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান এবং জিএম নজরুল ইসলাম অধ্যাদেশের পক্ষে তাদের মত তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে-দুর্নীতি দমন কমিশন, নির্বাচন কমিশন এবং মহা হিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয় কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেই। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা জাতীয় মানবাধিকার অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলার একটাই কারণ-স্বাধীনভাবে কোনো কমিশন সরকারের কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা কিংবা সরকারি কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করুক, সেটি সরকার কখনো চায় না। মূলত সরকারের প্রত্যাশা-মানবাধিকার কমিশন হলেও সেটি প্রকারান্তরে তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকতে হবে।

তারা বলেন, সরকারি অনুমোদনের অজুহাত আসলে দায়মুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে গুম ও নির্যাতনের প্রায় সব অভিযোগ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে উঠলেও একটি গুমের অভিযোগও সরকার তদন্তের অনুমোদন দেয়নি। তারা প্রশ্ন রাখেন-হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ব্যারিস্টার আরমান ও সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের অভিযোগ কি সরকার তদন্তের অনুমোদন দিয়েছিল।

কমিশনের সদস্য বাছাই কমিটিতে সরকারের আরও প্রতিনিধি রাখার বিষয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা বলেন, বাছাই কমিটিতে ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সরকারি দলের সংসদ-সদস্য এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত দুজন সদস্য আছেন। ৮ সদস্যের কমিটিতে ৪ জন ইতোমধ্যে সরকারের নির্বাহী বিভাগের। এখন যদি সরকারের আরও প্রতিনিধি রাখার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ এ বাছাই প্রক্রিয়া তখন আর বাছাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, কার্যত সেটি সরকারি নিয়োগে পরিণত হবে।

তারা বলছেন, মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ল্যাপস বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ায় সরকার অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনের এ সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা কার্যত লঙ্ঘন করবে। আটক ও গুমের মতো গুরুতর অপরাধের তদারকি ও প্রতিরোধের আইনগত কাঠামো হারাবে। এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মঞ্চে দেশের অবস্থান আরও দুর্বল হবে।

বিরোধীদলীয় সংসদ-সদস্যদের বক্তব্য হচ্ছে-২০০৯ সালের পুরোনো আইন পুনর্বহাল হওয়া মানে গুম অধ্যাদেশের অধীনে কমিশনের ভূমিকা পালনের আইনগত সক্ষমতা হারানো। একই সঙ্গে গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশনের অধীন বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতাও কার্যত অপূর্ণ থাকবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে গুম ঠেকানো এবং গুমের অভিযোগ তদন্ত করার মতো কার্যকর সংস্থা সরকার বিলুপ্ত করেছে।

তবে এ বিষয়ে এখনই নিরাশ হতে রাজি নন সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেডআই খান পান্না। বুধবার তিনি বলেন, সরকার হয়তো কোনো চাপের মুখে এটা করেছে (অধ্যাদেশ বাতিল)। তবে আমি আশাবাদী, শিগ্গিরই হয়তো সংশোধিত অধ্যাদেশ আসবে। তাছাড়া বিদ্যমান আইনেও কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনের প্রয়োগ জানতে হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)