সুবর্ণভূমি ডেস্ক
সারাদেশে অধস্তন আদালতগুলোতে বর্তমানে ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মামলার জট নিরসনে সরকারের উদ্যোগ আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং মামলাজট নিরসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ৮৭১টি আদালত এবং ২৩২টি বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃজন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে ১৫০ জন নতুন সিভিল জজ নিয়োগের কার্যক্রম চলছে এবং বিভিন্ন পদে মোট এক হাজার ২৬১ জন বিচার বিভাগীয় কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দলীয় আনুগত্য জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে আইনি বাধা না থাকলেও তারা দলীয় আনুগত্যকে বিচারকদের বদলি ও পদায়নের মুখ্য মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করত। যারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাইতেন, তাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠিয়ে কার্যত শাস্তি দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার সেই পথে হাঁটবে না জানিয়ে তিনি বলেন, এখন থেকে সততা, দক্ষতা ও বিচারিক আচরণই হবে পদায়নের মানদণ্ড। এক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টে সুপারিশ করবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টই নেবে।
রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এজাহারে আসামির দলীয় পরিচয় থাকে না বলে রাজনৈতিক মামলা বা হয়রানিমূলক মামলার সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তবে সরকারি দলের মনোয়ার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, বিগত সরকারের আমলের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি মামলাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তবে নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে না।
মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মামলা নিষ্পত্তিতে গড়ে কত সময় লাগে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান বা সমীক্ষা সরকারের কাছে নেই। তবে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮০ দিন এবং দায়রা আদালতে ৩৬০ দিনের মধ্যে ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তির নিয়ম রয়েছে। দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও জটিলতাভেদে তা এক থেকে পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় নিতে পারে।