মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জেলার বিভিন্ন এলাকা। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া মাত্র আধা ঘণ্টার এই শক্তিশালী ঝড়ে শত শত গাছপালা উপড়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে অসংখ্য কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি এবং উপড়ে গেছে বিদ্যুতের খুঁটি।
ঝড়ে জেলার তিনটি উপজেলাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোড়পুকুরিয়া গ্রামের এক চা দোকানি জানান, আধা ঘণ্টার ঝড়ে তার একমাত্র আয়ের উৎস দোকানটি উড়ে গেছে। এছাড়া ওই গ্রামে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি ঘর ভেঙে পড়েছে এবং অনেকের ঘরের চালা উড়ে গেছে। ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমচাষিরা। বাগানজুড়ে ঝরে পড়া আমের স্তূপ দেখা গেছে। চেংগাড়া গ্রামের আমচাষি রহিম জানান, তার তিন বিঘা বাগানের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। এছাড়া মাঠের ভুট্টা ও লিচুবাগানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) সঞ্জীব মৃধা জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টির পর এই ঝড়ে আম, ভুট্টা, লিচু ও সবজিসহ মোট ৬০৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে পুরো মেহেরপুর জেলা টানা ১২ ঘণ্টা অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) স্বদেশ কুমার জানান, ঝড়ে ১৫টি পোল (খুঁটি) ভেঙে গেছে, হেলে পড়েছে ১৬টি, মিটার ভেঙেছে ৩৫০টি এবং ৫০টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কর্মীরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।
চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস জানায়, রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই তালিকা তৈরি করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো তাদের পাশে দাঁড়ানো হবে।