সুবর্ণভূমি ডেস্ক
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
বুধবার হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে ইরান যুদ্ধের খরচ, কৌশল এবং রেকর্ড সামরিক বাজেট নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়।
বার্তা সংস্থা এপি ও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূলত ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর এই শুনানি হওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন আগামী বছরের জন্য রেকর্ড ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেট প্রস্তাব করেছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি। তবে শুনানিতে বাজেট ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ।
শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন ছাড়াই ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ শুরু করেছেন।
পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ক্রিস ডেলুজিও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী শুরু থেকেই ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের প্রশ্ন এড়িয়ে চলছেন।’
অন্যদিকে, রিপাবলিকান সদস্যরা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাড়ানোর পক্ষে মত দেন।
হেগসেথের কাছে ইরান যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা ‘এন্ড গেম’ কী, তা জানতে চান আইনপ্রণেতারা। এ ছাড়া যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক হতাহত এবং সম্প্রতি একটি স্কুলে বিমান হামলায় ১৭৫ জন নিহতের ঘটনা নিয়ে তাকে কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ইরান হরমজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও শুনানিতে উঠে আসে।
শুনানিতে হেগসেথের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। সামরিক বাজেট ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার তাদের সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একের পর এক বরখাস্ত করা নিয়েও আইনপ্রণেতারা হেগসেথকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন বলে জানা গেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা