চৌগাছায় আটক কবিরের আদালতে স্বীকারোক্তি
স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় বাঁওড়ের নৈশপ্রহরী ও স্থানীয় বিএনপি কর্মী আতিয়ার রহমান হত্যার ঘটনায় আটক কবির হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাছ চুরিতে বাধা দেওয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে মোহাম্মদ আলী তাকে ছুরিকাঘাত ও গলা গেটে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন কবির হোসেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াজ ১৬৪ ধারায় আসামির এ জবানবন্দী গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। কবির চৌগাছার ফতেপুর গ্রামের আশাদুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সাজু উদ্দিনকে আটক করেছে।
পুলিশের ভাষ্য, কবির হোসেন জবানবন্দীতে জানিয়েছেন, গত ২০ জুন রাতে মোহাম্মদ আলী তাকে বাঁওড়ে মাছ ধরতে নিয়ে যান। কিছু সময় পর পাহারাদার আতিয়ার তাদের দেখে ফেলে তাদের কাছে যান। এ সময় মোহাম্মদ আলীর সাথে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে আতিয়ারকে ছুরিকাঘাতে জখম করে।
এরপর আতিয়ার মাটিতে পড়ে গেলে মোহাম্মদ আলী তাকে টেনে পাশের ঘাসের জমিতে নিয়ে গলা গেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে বাঁওড়ের ক্যানেলের কচুরিপানার মধ্যে ফেলে দিয়ে আসেন বলে জানিয়েছেন কবির।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, লস্করপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ে নৈশপ্রহরীর চাকরি করতেন। ২০ জুন রাতে খাওয়া শেষে আতিয়ার রহমান বাঁওড় পাহারা দেওয়ার ডিউটিতে যান। পরদিন বাড়ি না ফেরায় সংবাদ পেয়ে বাঁওড়ের ক্যানেলের কচুরিপানার মধ্যে থেকে ক্ষত-বিক্ষত আতিয়ার রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই লস্করপুর গ্রামের রাশেদ আলী বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে চৌগাছা থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কবির হোসেন ও বাঁওড়ের অপর পাহারাদার সুজা উদ্দিনকে আটক করে মঙ্গলবার আদালতের সোপর্দ করে। এদের মধ্যে আটক কবির হোসেন হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আদালতে ওই জবানবন্দী দিয়েছেন।