স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরে গত তিনদিন ধরে ক্রমাগত বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ জন নারী, পুরুষ ও শিশু চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তবে সরকারি এই হাসপাতালে জরুরি মুহূর্তে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ‘কলেরা সেলাইন’ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। নিরুপায় হয়ে দরিদ্র রোগীদেরও বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া দামে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তীব্র গরম ও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জেলায় হঠাৎ করেই ডায়রিয়ার সংক্রমণ বেড়েছে। গত ৭২ ঘণ্টায় এই প্রবণতা দেখা গেছে। হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২৬ জন রোগীর মধ্যে নারী রোগীর সংখ্যাই বেশি।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত শুক্রবার (২৬ জুন) ডায়রিয়ার সংক্রমণ নিয়ে ১৪, শনিবার পাঁচ এবং রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের আটজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী আসায় অনেককে মেঝেতে ও বারান্দায় শয্যা পেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুপা দাসের স্বজন পারুল বালা দাসের অভিযোগ, রুপাকে শনিবার দুপুরে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা স্যালাইন ও ওষুধ লিখে দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালের নিজস্ব স্টোর থেকে কোনো কলেরা স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে না। ডিউটি নার্স ও কর্মচারীরা সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছেন, সরকারি স্যালাইন স্টকে নেই। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের বেসরকারি ফার্মেসি থেকে খুচরা মূল্যে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে।
একই অভিযোগ করেন সদর উপজেলার তফসিডাঙ্গা গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে রাসেল (২৫)। তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘শুক্রবার রাতে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছি। এখন একটু সুস্থ। কিন্তু সেবা পেলেও হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ পাওয়া যায়নি। সকল ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।’
হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনর্চাজ শামিমা জানান, গত তিন মাস যাবৎ ওয়ার্ডে কলেরা স্যালাইন নেই। কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত আকারে জানানো হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। তাই রোগীর স্বজনরা বেসরকারি ফার্মেসি থেকে স্যালাইন কিনে আনছেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হাবিবা সিদ্দিকা ফোয়ারা বলেন, হাসপাতালে সরকারিভাবে ওষুধ কেনা হয়েছে। সার্ভে করে ওয়ার্ডে ওষুধ ২/৩ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন শাফায়েত সুবর্ণভূমিকে জানান, হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় কলেরা স্যালাইনের স্থানীয় স্টক শেষ হয়ে গেছে। চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে। সেখান থেকে ওষুধ হাসপাতালে বুধবার পৌঁছেছে। ফলে দ্রুত সংকট কেটে যাবে।