সুবর্ণভূমি ডেস্ক
আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণের দিনগুলোতে এখন বর্ষার পূর্ণ যৌবন। কালো মেঘের দল ডানা মেলেছে সারা দেশের আকাশে। আবহাওয়া দপ্তরের মেঘ-বার্তায় জানা গেল, আজ সোমবার থেকে চট্টগ্রামের পাহাড় আর সমুদ্রকে কিছুটা রেহাই দিয়ে দেশের বাকি সাতটি বিভাগের ওপর নেমে আসতে চলেছে বর্ষা-কাব্য। কোথাও মেঘের মৃদু গুঞ্জন, আবার কোথাও অঝোর ধারায় অতিভারী বর্ষণ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
সম্ভাব্য প্রবল বর্ষণের নেপথ্যে রয়েছে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর বিস্তার। আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুকের স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, সোমবার দ্বিপ্রহর থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টাজুড়ে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেটের আকাশ ভেঙে নামবে শ্রাবণের ধারা। তবে এই ধারার আবাহনে শহর-নগরবাসী সাময়িক জলাবদ্ধতার শিকার হতে পারেন।
আবহাওয়া দপ্তর বলছে, ২৪ ঘণ্টার ফ্রেমে যদি ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরে, তবে তা ভারী; আর তার ঊর্ধ্বে গেলেই তাকে বলা হয় অতিভারী বর্ষণ।
ইতোমধ্যে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা নীলফামারীর ডিমলা যেন মেঘের অতলস্পর্শী ভালোবাসায় ভিজে একাকার। সেখানে সোমবার রেকর্ড হয়েছে সর্বোচ্চ ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি। পিছিয়ে নেই সুন্দরবনসংলগ্ন মোংলার উপকূল কিংবা চায়ের দেশ সিলেটও; ১০০ ও ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়ে স্থান দুটিতে। রংপুর, দিনাজপুর, বরিশাল আর খেপুপাড়ার আকাশেও চলেছে বৃষ্টির নিরন্তর খেলা। আর যান্ত্রিক ঢাকা; সেও ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে ধুয়ে নিয়েছে তার ধুলোবালি।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা শোনালেন মেঘ-বৃষ্টির ভবিষ্যৎবাণী। আগামী দুই দিন চট্টগ্রাম বাদে সারা দেশেই চলবে এই বৃষ্টি। এরপর কিছুটা বিরতি নিয়ে আগামী রোববারের আলসে সকালে মেঘের দল আবার ভারী পায়ে ফিরে আসবে। তখন হয়তো সমুদ্রের কোলঘেঁষা চট্টগ্রামও ভিজবে অতিভারী বর্ষণে। তবে আশার কথা এই যে, গত সপ্তাহের মতো একটানা অতিবৃষ্টির আশঙ্কা এখনই নেই।
বৃষ্টিমুখর দিন সোমবারও যশোরের আকাশে সূর্যের তেজ ছিল। থার্মোমিটারে সর্বোচ্চ পারদ ছুঁয়েছিল ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর মেঘলা ঢাকার বুকে তা থমকে ছিল ৩০ ডিগ্রির স্নিগ্ধতায়। মৌসুমি বাতাসের মাতাল হাওয়া আর মেঘের এই যুগলবন্দীতে আগামী দু-তিন দিনে গরমের দাপট খানিক কমে আসবে, প্রকৃতিতে ফিরবে হিমেল পরশ।