কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার মিরপুরে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় পাখিভ্যানের এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মিরপুর উপজেলার সদরপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ভানু খাতুন (৫৫) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া ইউনিয়নের স্বস্তিপুর এলাকার হাসেম আলীর স্ত্রী।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক দিন আগে ভানু খাতুন নিজ বাড়ি থেকে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের নওদা আজমপুর এলাকায় তক্কেল হোসেনের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে পাখিভ্যানে করে ফ্রিজ মেরামতের জন্য খলিসাকুন্ডি বাজারে যাচ্ছিলেন তিনি।
সদরপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি পাখিভ্যান খলিসাকুন্ডির দিকে যাওয়ার সময় মাদরাসার সামনে এর এক্সেল রড ভেঙে যায়। এ সময় পেছন থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস পাখিভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানের যাত্রী ভানু খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গত কয়েক মাস ধরে মাদরাসার সামনে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হচ্ছে। দুর্ঘটনা রোধে তিনি মাদরাসার সামনে স্পিড ব্রেকার স্থাপনের দাবি জানান।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ভানু খাতুন নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত দুজনকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে পাখিভ্যান চালকের অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ওসি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।