যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, জিরো লাইনে নারী-শিশু

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : সোমবার, ১ জুন,২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
আপডেট : সোমবার, ১ জুন,২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, জিরো লাইনে নারী-শিশু

যশোরের বেনাপোল সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কথিত বাংলাদেশি পরিচয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ একদল মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত আট থেকে দশ জনের ওই দলটি কাঁটাতারের এপারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) এলাকায় অবস্থান করছিল।

রোববার (৩১ মে) দিনগত গভীর রাত থেকে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তরে সাদিপুর খড়ের মাঠ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে সন্দেহে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থা বজায় রাখে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত টহল, মাইকিং এবং নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, রোববার রাতে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জয়ন্তীপুর সীমান্ত এলাকা থেকে কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তাদের বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর এলাকার সীমান্ত পিলার নম্বর ১৯/এস-৬ এর কাছে নিয়ে আসা হয়। তবে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকা বিজিবির সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেন।

বিজিবি যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটা এমন একটি বিষয়, যা ইচ্ছা করলেই দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। এখন বিএসএফ বলছে, এই লোকজন তাদের নয়। এমন দাবি তারা করতেই পারেন। তবে বিজিবি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করেছি, কিন্তু তারা স্বীকার করতে চাচ্ছে না যে, এদের পুশইন করা হয়েছে। অথচ সেই সময়কার ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ করছে বিএসএফ এদের ঠেলে দিয়েছে। তাছাড়া ভুক্তভোগীরাও জানিয়েছেন, বিএসএফ তাদের সীমান্তে এনে জড়ো করেছে। তারপরও বিএসএফ বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, রোববার সন্ধ্যার পর বিএসএফ তিনটি গাড়িতে করে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে। পরে বাতি নিভিয়ে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে সীমান্তজুড়ে টর্চ ও সার্চলাইট জ্বালিয়ে পুরো এলাকা আলোকিত করে রাখেন। পাশাপাশি মাইকিং, গ্রুপভিত্তিক টহল ও অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়। ফলে বিএসএফের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।

বিজিবি অধিনায়ক জানান, একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাদিপুর এলাকার সীমান্ত পিলার ১৯/এস-৬ এর কাছে আট থেকে দশ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিজিবি সদস্যরা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় তাদের আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করতে দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা দুই দেশের মধ্যবর্তী জিরো লাইনে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করলেও এখন পর্যন্ত বিএসএফ তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়নি। তবে তাদেরকে পানি ও খাবার দিচ্ছে বিএসএফ।

বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘যদি ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে প্রমাণসাপেক্ষে নিয়ম অনুযায়ী ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদেরকে হস্তান্তর করতে পারেন। আমরা তাদের সাদরে গ্রহণ করবো। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাউকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। বিজিবি শক্ত অবস্থানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’

 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)