যশোর, বাংলাদেশ || শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী আজ

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : শনিবার, ৩০ মে,২০২৬, ১২:৪৩ এ এম
স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী আজ

জননন্দিত রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ শনিবার। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে তিনি শহীদ হন।

জিয়াউর রহমান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী। একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে নিরীহ বাঙালিদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। সে সময় পুরো জাতি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। তাদের আলোর দিশা দিতে ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘উই রিভোল্ট’ বলে বিদ্রোহ করেন। এরপর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ইথারে ভেসে আসা ওই ঘোষণায় দিশেহারা জাতি উজ্জীবিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধে জিয়া ছিলেন অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরউত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।

জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আট দিনের কর্মসূচি নিয়েছে। শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি তুলে ধরেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হচ্ছে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

শনিবার ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান রুহুল কবির রিজভী।

জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মনসুর রহমান এবং মাতার নাম জাহানারা খাতুন ওরফে রানী। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়।

‘জিয়ার আদর্শ ধারণ করেই বিএনপির পথচলা অব্যাহত থাকবে’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীতে আমি তার অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ও বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শহীদ জিয়ার মহান আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ।

মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জীবনকালে স্বজাতির চরম ক্রান্তিকালে দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক জিয়াউর রহমান ইতেহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ে জাতির ইতিহাসে এক বীর নায়কের স্থান অর্জন করেছেন। ২৬ মার্চ তার স্বাধীনতার ঘোষণার অভয়মন্ত্রে দেশের তরুণ ছাত্র, শ্রমিক ও যুবকসহ নানা স্তরের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে হানাদার বাহিনীর ধ্বংসের শক্তি প্রতিহত করে দেশবাসী বিজয়ের দিকে ধাবিত হয়। বিজয়ের পরে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক দমনমূলক শাসন শোষণের যাঁতাকলে দেশের মানুষ ভয়াবহ অরাজকতার মধ্যে পতিত হয়। মানুষের নাগরিক অধিকারগুলো হরণ করা হয়, গণতন্ত্রকে দেওয়া হয় কবর। নির্মম একদলীয় দুঃশাসন আইন করে চালু করা হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ মানুষের বাক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে মুছে দেওয়া হয় স্বেচ্ছাচারী আক্রমণে। একদলীয় প্রভুত্ববাদের অধীনতার নাগপাশে বন্দী করা হয় জাতিকে। চলমান নৈরাজ্যের সেই সময়ে সিপাহি ও জনতা মিলিত হয়ে রাজপথে গড়ে তোলে প্রবল প্রতিরোধ। সিপাহি-জনতার মিলিত স্রোতে জিয়াউর রহমানকে বন্দীদশা থেকে মুক্তি করা হয়। জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় অভিসিক্ত হন। জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেই ফিরিয়ে দেন বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং সংবাদপত্রসহ নাগরিক স্বাধীনতা। গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক সার্থকতা নিশ্চিত করেন। শুরু করেন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে উৎপাদনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ‘ঝুড়ির’ আখ্যা থেকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেন। ব্যক্তিজীবনেও দুর্নীতি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও সুবিধাবাদের কাছে আত্মসমর্পণকে তিনি ঘৃণা করতেন। তার অন্তর্গত স্বচ্ছতা তাকে দিয়েছে এক অনন্য ঈর্ষণীয় উচ্চতা। তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের কারণেই বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা শুরু হয় এবং অর্থনীতি মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, এই মহান জাতীয়তাবাদী নেতার জনপ্রিয়তা দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারী শক্তি কখনোই মেনে নিতে পারেনি। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশবিরোধী চক্র তার বিরুদ্ধে নীলনকশা আঁটতে শুরু করে। এই চক্রান্তকারীরা ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একজন মহান দেশপ্রেমিককে দেশবাসী হারায়। তবে চক্রান্তকারীরা যতই চেষ্টা করুক কোনো ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ককে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেই তিনি বিস্মৃত হন না বরং নিজ দেশের জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরুক হয়ে অবস্থান করেন। তার সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা আপসহীন দূঢ়তা নিয়ে জিয়া শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ধরেই বহুদলীয় গণতন্ত্র, দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী শক্তিকে মোকাবিলা করে। নিখাদ দেশপ্রেমিক শহীদ জিয়াকে কখনো তার বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র টলানো যায়নি। তিনি সারা জীবন আদর্শকে বুকে ধারণ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে গেছেন আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনমনে ভয় আর আতঙ্ক সৃষ্টি করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছিল। জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বন্দী করেছিল ফ্যাসিবাদের কারাগারে। গুম, খুন, নির্যাতন ও জুলুম ছিল পতিত ফ্যাসিবাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার। দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে এক লুটেরা মাফিয়া অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিল পরাজিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী। এমতাবস্থায় অপহৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ছাত্র, শ্রমিক ও জনতাসহ সব গণতন্ত্রকামী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখ শেখ হাসিনার পতন ঘটায়। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়কে এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতা, প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পরমতসহিষ্ণুতাসহ সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্র স্থিতিশীল ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের গণতান্ত্রির প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতীয় জীবনের সব সংকট, সংগ্রাম ও বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা, নির্ভীক নির্মোহ রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়ার আদর্শ, দেশপ্রেম, সততা ও কর্মনিষ্ঠা আজ জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রেরণার উৎস। এবার ৩০ মে মহান নেতার শাহাদতবার্ষিকী সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহসহ সকল স্তরের জনগণের প্রতি আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)