খুলনা অফিস
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে রাজনৈতিক বিতর্কের নিষ্পত্তি সংসদে চায় জামায়াত, না হলে রাজপথে ফয়সালা হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের দাবি তুলে ধরতে বিভাগীয় মহাসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।
আগামী ২০ জুন খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে খুলনায় জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পরে ঢাকায় ১১ দলের জরুরি বৈঠক থেকে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে ১১ দলের স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে জরুরি প্রেসব্রিফিং তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা রাজপথে নামতে চাই না। কিন্তু সরকার আমাদের বাধ্য করলে রাজপথই হবে চূড়ান্ত জায়গা।
সীমান্তে পুশইন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এটি নিয়ে সংসদে একজন এমপি নোটিস দিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সেটি প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে। এতেই প্রমাণ হয় কোথা থেকে কী হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘কেউ আমাদের ওপর দাদাগিরি করে আধিপত্যবাদের সেবাদাস বানাক সেটি আমরা চাই না।’
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী আমলে দলীয়করণের নজির আমরা দেখেছি। কিন্তু এখন আরও বেশি দেখতে হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সব নিয়মকে তোয়াক্কা না করে সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ এমনকী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও প্রশাসক বসিয়ে দলীয়করণের নজির স্থাপন করা হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের হাজারো শহীদের রক্ত এবং ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ী স্মৃতির বিনিময়ে দেশের ১৮ কোটি মানুষ একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা করেছিল। সেই রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে দীর্ঘ নয় মাস ধরে বিএনপি ও জামায়াতসহ ৩৩টি রাজনৈতিক দল দফায় দফায় বৈঠক করে ৮৪টি সাংবিধানিক, আইনি ও প্রশাসনিক বিষয়ে একমত হয়ে 'জুলাই সনদ' তৈরি করে।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ (৭০ শতাংশ ভোটার) দ্বিমত ছাড়াই এই জুলাই সনদের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা এই সনদের পক্ষে সারাদেশে ক্যাম্পেইন করেন। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর তারা ১৮০ ডিগ্রি ইউটার্ন নিয়ে বলছেন যে, এই গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ নাকি বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থী।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কার না হলে যারাই প্রধানমন্ত্রী হবেন, তারাই আরেকটা শেখ হাসিনা হয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন চাপিয়ে দেবেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের বর্তমান জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকার গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়িয়েছে। আধুনিক চিকিৎসার এই যুগে কেবল সরকারের নির্লিপ্ততা ও ভ্যাকসিনের অব্যবস্থাপনার কারণে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ সরকার শুধু অতীতের দোষ দিয়ে বেঁচে যেতে চায়।
সারাদেশে এবং বিশেষ করে খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, খুলনার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আয়রন মার্কেটে প্রতিটি দোকান থেকে দশ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করায় গত এক সপ্তাহ ধরে ৭০টি দোকান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া শিশু হত্যা, খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার, মসজিদের ভেতর ঢুকে গুলি এবং ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো বর্বর ঘটনা নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো এখন আইন-শৃঙ্খলার চেয়ে সংবিধান নিয়ে বেশি ব্যস্ত।
সমাবেশ বাস্তবায়নের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোবারক হোসাইন, সদস্য সচিব মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
জামায়াতের খুলনা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সাবেক কাউন্সিলর মাস্টার শফিকুল আলম, জাতীয় নাগরিক পার্টির খুলনা মহানগর সংগঠক আহম্মদ হামিম রাহাত, রমজান শেখ, খালিদ সাইফুল্লাহ, নূরুল হক নূর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাঈদুর রহমান, হাফেজ মো. শহীদুল ইসলাম, মাওলানা মুজাহিদুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুফতি ইব্রাহিম খলিল, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ এসএম সাইফুদ্দোহা, মহানগর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিং শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা নগরীর স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, বাংলাদেশ ব্যাংকের মোড়সহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের লিফলেট বিতরণ করেন।