লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান বিতরণের জন্য প্রস্তাবিত তালিকায় নাম রয়েছে তার নিজের মেয়ের। এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, তালিকায় নাম থাকলেও কোনোভাবেই তার পরিবারের সদস্যরা এ অর্থ পাবেন না; বরং যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত অসহায় ও যোগ্য ব্যক্তিদের কাছেই অনুদানের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অর্থ শাখা-২ থেকে গত ১৪ জুন সিনিয়র সহকারী সচিব রাখী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের অনুকূলে নিজস্ব কর্তৃত্বে বিতরণের জন্য এক লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ অর্থ সংসদ সদস্যের পাঠানো ২১ সদস্যের একটি তালিকা অনুযায়ী বিতরণের কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বর ক্রমিকে ‘ফাইজা’ নামের দুই ব্যক্তির জন্য দশ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।
একজনের পিতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘মো. বাচ্চু’ এবং অন্যজনের পিতার নাম ‘মো. আতাউর’। উভয়ের ঠিকানা নড়াইল সদর উপজেলার হবোখালী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
তালিকায় উল্লেখিত ‘ফাইজা’ জামায়াতে ইসলামী দলীয় এমপি আতাউর রহমান বাচ্চুর মেয়ের নাম। আবার একই তালিকায় তার নাম দুই জায়গায় এসেছে। সেখানে পিতার নামের স্থানে এমপি আতাউর রহমান বাচ্চুর নাম পুরো উল্লেখ না করে খণ্ড খণ্ড লেখা হয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে।
অনুমোদিত বরাদ্দের তালিকা অনুযায়ী, নড়াইল সদর উপজেলার দশজনের জন্য মোট ৮০ হাজার টাকা এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের জন্য এক লাখ তিন হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বরাদ্দসংক্রান্ত চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।
এ বিষয়ে দেওয়া ব্যাখ্যায় এমপি আতাউর রহমান বলেন, প্রতি বছর একজন সংসদ সদস্যের জন্য পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঐচ্ছিক তহবিল বরাদ্দ থাকে। তবে তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট সময়ের জন্য পেয়েছেন এক লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা।
এমপির ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদ সচিবালয়ে নামের তালিকা জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি এলাকায় ব্যস্ত থাকায় তার ব্যক্তিগত সহকারীকে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করে তালিকা জমা দিতে বলেন।
ব্যক্তিগত সহকারী তাকে জানান, তাৎক্ষণিকভাবে পরিচিত কিছু নাম দিয়ে তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে এবং পরে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী অর্থ বিতরণ করা যাবে। সেই অনুযায়ী তার স্বাক্ষরিত প্যাড ব্যবহার করে তালিকাটি জমা দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘তালিকায় কার কার নাম দেওয়া হয়েছে, তখন সেটা দেখার সুযোগ আমার হয়নি।’
‘সহকারী তাকে জানান, প্রাথমিক তালিকায় অসহায় ব্যক্তিদের নাম দিয়ে পরে তাদের অনুদান না দিলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে- এই যুক্তিতে পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে,’ দাবি সংসদ সদস্যের।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে নির্দেশ দিয়েছি, প্রাথমিক তালিকা নয়-যাচাই বাছাই করে প্রকৃত যোগ্য ও অসহায় ব্যক্তিদের মধ্যেই এই অর্থ বিতরণ করা হবে।’
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও একটি ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দিয়েছেন এমপি আতাউর রহমান।