স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সৌর বিদ্যুতে মনোনিবেশ করেছে। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে দশ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়।
প্রধানমন্ত্রীঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে এক লাখ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি এবং জিলা স্কুলের দশ তলাবিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
শনিবার সকালে যশোর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অতীতে আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ডিজেল এবং ফার্নেস অয়েলনির্ভর ছিল। পরবর্তীতে গ্যাস এবং কয়লানির্ভর হয়েছে। এর সব কিছু প্রকৃতির ক্ষতি করছে। সরকার বর্তমান বাজেটে স্কুলের ইলেক্ট্রিক বাইকের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক ঘোষণা করেছে। একই সাথে সরকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণ করেছে। সরকার আগামীতে প্রথমে সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এমন জায়গায় নিয়ে আসতে চায়, যাতে করে এ থেকে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি।
প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির সমন্বয়ে পাঠদানকে আনন্দময় করতে হবে। এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা। অর্থাৎ লেখাপড়ার মধ্যে শিক্ষার্থীরা আনন্দ খুঁজে পেলে তারা লেখাপড়ায় অনেক বেশি আগ্রহী হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘লেখাপড়া শেষ করে তোমাদের মেধা ও যোগ্যতা বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ব্যয় করবে। তোমরা কেউ যেন ভুল পথে পা না বাড়াও, সে বিষয় সর্তক থাকতে হবে। অনেক বন্ধু তোমাদের অ্যাডভেঞ্চারের কথা বলে এমন কিছু কিছু জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। সেখান থেকে তোমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জীবনে সকল ক্ষেত্রে জয়-পরাজয় আছে। জীবন যেখানে আটকে যায়, সেখান থেকে নতুন উদ্যমে পথ চলা শেখায়। তাই থেমে থাকলে চলবে না নবউদ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।’
পৃথক অনুষ্ঠান দুটিতে আরও উপস্থিত ছিলেন, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুকে আযম মু. আব্দুস ছালাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ১৩ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে যশোর জিলা স্কুলের দশ তলাবিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মিত হচ্ছে।