স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে জনপ্রতিনিধি বা সরকারি বরাদ্দের আশায় বসে না থেকে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত একটি সড়ক নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোহাকুলা ইউনিয়নের 'বায়তুন নূর জামে মসজিদ'-সংলগ্ন সড়কটিতে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা লেগে ছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি তলিয়ে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যেতো। এর ফলে স্থানীয় এলাকাবাসী, পথচারী এবং বিশেষ করে মসজিদে যাতায়াতকারী শত শত মুসল্লিকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই ভোগান্তি চললেও রাস্তাটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো সরকারি উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।
সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জনসেবার অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীর হোসেন নিজস্ব অর্থায়নে ওই সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করেন। একইসাথে রাস্তা থেকে পানি নিষ্কাশন করে দীর্ঘদিনের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের কার্যকর ব্যবস্থা নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর হোসেনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে সড়কটিতে মাটি ও ইট ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। এই মানবিক ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা
স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, 'নেতা তো অনেকেই আছেন, কিন্তু মানুষের কষ্ট বোঝেন কজন? দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই রাস্তায় যাতায়াতে নরকযন্ত্রণা ভোগ করছিলাম। জাহাঙ্গীর হোসেন নিজের পকেটের টাকা খরচ করে আমাদের এই রাস্তাটি ঠিক করে দিলেন। জনগণের সমস্যা সমাধানে নির্বাচনের আগেই এমন কার্যকর পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা মনে করি, তার মতো নিঃস্বার্থ সমাজসেবকই দোহাকুলা ইউনিয়নের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য।'
সড়ক সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতার লোভে নয়। এই রাস্তাটির বেহাল দশা এবং মুসল্লিদের কষ্ট আমাকে ব্যথিত করে। আমি মনে করি, সমাজের সামর্থ্যবান প্রত্যেকেরই উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সরকারি বরাদ্দের দিকে চেয়ে না থেকে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি মাত্র।'
তিনি বলেন, 'দোহাকুলা ইউনিয়নবাসী যদি ভবিষ্যতে আমাকে সেবা করার সুযোগ দেন, তবে এই অঞ্চলের প্রতিটি অবহেলিত রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন গড়ে তুলবো।'