কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে সরকারি বিল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করেও মাছ ধরতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি মুজিবুর রহমান মুজের বিরুদ্ধে জোর করে বিল থেকে মাছ ধরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ ও প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় কেশবপুর উপজেলার মির্জানগর বিলের তীরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়েন ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য শেখ আব্দুস সাত্তার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কেশবপুর উপজেলার মির্জানগর মৌজায় অবস্থিত সরকারি বিলটির সিএস খতিয়ান নম্বর ১৯, ২০ ও ২১ এবং দাগ নম্বর ৬৪১, ১১৭৩ ও ৮৩০। জমির পরিমাণ ১৭ একর ৫২ শতক। সমিতি প্রতি বছর দুই লাখ টাকা ইজারা দিয়ে বিলটি সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে আসছে।
সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজের মাধ্যমে চলতি ২০২৬ সাল থেকে ২০২৮ সাল (বাংলা ১৪৩৫ সাল) পর্যন্ত তিন বছরের জন্য বিলটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ ছাড়ার পর সমিতির ১০১ সদস্য বিল থেকে মাছ ধরতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
শেখ আব্দুস সাত্তার বলেন, বিলটির মালিকানা নিয়ে অতীতেও বিরোধ ও মামলা হয়েছে। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী বিলটি সরকারের সম্পত্তি। পরে বিভিন্ন সময়ের রেকর্ড ও আদালতের নথিতেও সরকারি মালিকানা বহাল থাকার তথ্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, মির্জানগর বিলের মালিকানা দাবি করে মির্জানগর গ্রামের জনৈকা সাহিদা খাতুন ও আব্দুর রশিদসহ কয়েকজন যশোর আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় সরকারকে বিবাদী করা হলেও তাদের কোনো সমন বা নোটিস দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। পরে একতরফা রায়ের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়। তবে মামলার এক নম্বর বিবাদী ইসমাইল গাজী আদালতে উপস্থিত হয়ে সরকার বিলটির প্রকৃত মালিক বলে জানান।
পরবর্তীতে ‘সরকারি বিল দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে’ অভিযোগ করে শেখ আব্দুস সাত্তার তৎকালীন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে যশোরের জেলা প্রশাসককে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের তদন্তের পর ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ তারিখে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে বিলটি সরকারের অনুকূলে নেওয়ার সুপারিশ করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে এসএ ও আরএস রেকর্ডেও বিলটি সরকারের নামে এক নম্বর খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সরকারি সম্পত্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় মুজিবুর রহমান মুজের সঙ্গে শেখ আব্দুস সাত্তারের বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা হয় এবং এসব মামলায় সরকারপক্ষে রায় হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ করা হয়, বিরোধের জেরে ২০১২ সালে মুজের ছোট ভাই শেখ আব্দুল্লাহ বাবুকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা নম্বর ১২/১৭/০১/২০১২। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
শেখ আব্দুস সাত্তার আরও অভিযোগ করেন, তাকে নিজের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ নেতা মুজে নিয়মিত বিল থেকে জোর করে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে সমিতির ১০১ সদস্য আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্তমানে সহায়-সম্বল হারিয়ে তিনি পরিবার নিয়ে বেনাপোলে বসবাস করছেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তির পক্ষে মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি ভিটেবাড়িসহ সর্বস্ব হারিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনের খবর পেয়েও মুজে বিল থেকে জোর করে মাছ ধরে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তদন্ত করে মুজে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান শেখ আব্দুস সাত্তার।
সংবাদ সম্মেলনে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে মুজিবুর রহমান মুজের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।