যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

‘গবেষণার সংস্কৃতিক নেই বাংলাদেশের’

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : রবিবার, ৯ আগস্ট,২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
‘গবেষণার সংস্কৃতিক নেই বাংলাদেশের’

আমেরিকা বা উন্নত বিশ্বকে অনুকরণ করতে গিয়ে উন্নত প্রযুক্তি ও জ্ঞান-গবেষণার সংস্কৃতি গ্রহণ করাই মূল চাবিকাঠি—যা চীন, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়া সফলভাবে অনুসরণ করেছে। বাংলাদেশ গবেষণা সংস্কৃতি মোটেও করছে না। এ নিয়ে বাংলাদেশি গবেষক ও ওষুধ আবিষ্কারক ড. রউফুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে লিখেছেন। সুবর্ণভূমির পাঠকদের জন্য ‍হুবহু তুলে ধরা হলো।

চীন আমেরিকার রাজনীতি নেয়নি। আমেরিকার খাবার সংস্কৃতি নেয়নি। আমেরিকার পোশাক সংস্কৃতি নেয়নি। আমেরিকার ধর্মীয় সংষ্কৃতি নেয়নি।

চীন নিয়েছে আমেরিকার শিক্ষা ও গবেষণার সংষ্কৃতি। চীন বুঝতে পেরেছে, আমেরিকার সাথে টিকে থাকতে হলে, এই একটা বিষয়ই আগে নিতে হবে।

জাপান তাই করেছিলো। দক্ষিণ কোরিয়া তাই করেছে।

বাঙালী অবশ‍্য আমেরিকার পোশাক, খাবার, রাজনীতি সব সংষ্কৃতিই ধার করতে চায়। শুধু শিক্ষা ও গবেষণার সংষ্কৃতি ছাড়া। প্রশ্ন করার সংস্কৃতি বাংলায় নাই। ক্রিটিক্যাল থিংকিং বাংলায় নাই। বাংলায় আছে শুধু পদের গরম। দেখে নেয়ার সংষ্কৃতি। ভাব মারার সংষ্কৃতি।

বাঙালী জ্ঞান-গবেষণার ধার ধারে না। আগে প্রশ্ন করে এটা জেনে লাভ কি?

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, গবেষণাগারগুলো পৃথিবী থেকে শেখার কোন প্রয়োজনীয়তাই মনে করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক, গবেষানাগারের অনেক চাকরিজীবী —আত্মজগতে নিজেকে আইনস্টাইন ভেবে বসে আছে। অথচ ভিতর পুরোই ফাঁপা, ফাঁকা। কাজের স্পৃাহা নাই। শেখার স্পৃহা নাই।

আমেরিকার বহু বিষয় খারাপ। কিন্তু আমেরিকার ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিজ্ঞান গবেষণাগারে, বিজ্ঞান সংগঠণে, কোন প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেতাই ভাবে লোক রেখে দিবে না। কঠোর কঠিন জবাবদিহিতা ছাড়া, চীরস্থায়ী চাকরি দিয়ে রাখবে না। কাজের বাইরে ফালতু কাজ, রাজনীতি, ঠুনকো কাজ করে দিন পার করার সুযোগ নাই। এই সংস্কৃতি ইউরোপেও। এখানে সত্তরের বহু বুড়োর কাজের স্পৃহা, শেখার আগ্রহ দেখলে লজ্জা লাগে।

চীন, দক্ষিণ কোরিয়া দেখেছে–আমেরিকার এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্রগুলোকেই অনুসরণ করতে হবে। তাই করেছে। একটা প্রতিষ্ঠানকে কি করে গতিশীল করতে হয়, কি করে প্রো-এক্টিভ রাখতে হয়, কি করে লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করতে হয়, ওরা সেগুলো শিখে নিয়েছে। উন্নত দেশ উন্নত হয়, প্রতিষ্ঠানকে সচল রেখে। কালের আগে দৌঁড়ানোর মতো যে ম্যানেজম্যান্ট, সেটা তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানের যে মাথা, সেটাকে ঠিক রেখে। বাংলাদেশেও যতো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান আছে, যারা ভালো করছে–দেখবেন তাদেরও মূলমন্ত্র এগুলোই।

মানুষ তো দুনিয়াতে কেউ লম্বা হবে, কেউ সাদা হবে, কেউ বামন হবে, কেউ কালো হবে–তাতে কিছু আসে যায় না। মানুষকে যদি পরিবেশ তৈরি করে দেয়া যায়, মানুষকে যদি যোগ্যতা দিয়ে জনসম্পদে পরিণত করা যায়–তাহলে সে দেশকে কেউ রুখতে পারবে না। সাদারা জন্মগতভাবে আমার চেয়ে বেশি মেধাবী না। বেশি বুঝে না। সে যদি আমার চেয়ে কিছু বেশি বুঝে, জানে–সেটা তার পরিশ্রমের জন্য। যে পরিবেশে বড়ো হয়েছে, সেটার জন্য। সাদা বলে না।

চাইনিজরা তিনবেলা ভাত খেয়ে বিশ্বজয় করছে। বাঙালীও ভাত খেয়ে, ভুঁড়ি দেখিয়েই সেটা পারবে যদি সেই পরিবেশটা তৈরি করা হয়। সেই পরিবেশে মানুষকে ছোটবেলা থেকে তৈরি করা হয়।

যে জাতি বীজতলা তৈরিতে সময় দেয়, ফোকাস দেয়, সে জাতিকে কখনো ফসল নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)