যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

‘জুলাইকে ওন করতে পারে না বিএনপি’

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : সোমবার, ৩ আগস্ট,২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
আপডেট : সোমবার, ৩ আগস্ট,২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
‘জুলাইকে ওন করতে পারে না বিএনপি’

দেখেন আমি এনসিপির কাছে কিছু এক্সপেক্ট করি না। না আছে তাদের জনসমর্থন, না আছে ম্যাচুরিটি। আর জামাতে ইসলামীর কোনো কর্মযজ্ঞের জন্য প্রয়োজনীয় হিউম্যান ক্যাপিটালই নাই- আছে কিছু জোকার। কিন্তু আপনাদের বিএনপির হিউম্যান ক্যাপিটাল আছে, পয়সা আছে, স্যাক্রিফাইস আছে। তাহলে কেন জুলাইকে ওন করতে পারেন না? এ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি অ্যাক্টিভিস্ট, বিশ্লেষক ফাহাম আব্দুস সালাম। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তার মন্তব্যটি সুবর্ণভূমির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

প্রথম আলোর শয়তানিটা দেখলাম। ‘কথিত গোপন বন্দিশালা’ হলো আয়নাঘর। অবস্থা এমন যে মতিউর রহমান আর আনিসুল হকরে ভইরে না রাখলে আয়নাঘর এদের কাছে রিয়াল বন্দিশালা হইবে না। কথিতই থাকবে। এতোগুলা মানুষের জবানবন্দি, চোখের পানি আর জীবন এদের কাছে যথেষ্ট হইতে পারে নাই।

ভাবতেছিলাম যে এই দুঃসাহসটা এরা পায় কেমনে? আয়নাঘরে এতোগুলা লোকের জীবন ধ্বংস হয়ে গেলো কিন্তু এদের কল্পনায় কেন সেই যন্ত্রণাটা হয় না যেইটা আমাদের হয়।

এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো ইনফাইটিং। বিএনপির অবস্থা হৈছে যে এনিথিং যেইটা এনসিপি আর জামাতরে সাইজ করে - যদি আওয়ামীরা করে - আমি সেইটা না দেখার ভান করবো। আর জামাতেনসিপি আছে এই তালে যে যেভাবেই হোক বিএনপি আর আওয়ামী ইকোয়াল - এইটা প্রমাণ করবো। যেমনেই হোক।

এই এন্ডলেস ইনফাইটিংয়ে যেই ঘটনাটা ঘটতেছে সেইটা হলো - আমাদের জুলাইপন্থীদের কোনো কালচারাল ও সোশাল ক্যাপিটাল তৈরী না হওয়া।

লক্ষ লক্ষ গাণ্ডু - সব পার্টিরই মনে করতেছে যে যত বেশি কাইজ্জা করবো, ছহি দিলে কন্সিস্টেন্টলি কাইজ্জা করবো - তত বেশি নীতিবান হিসাবে প্রমাণিত হবো এবং দলে এতে আমার মূল্যায়ন হবে। এর উপর জুটছে এক পাল নিরপেক্ষ গর্দভ - যাদের একমাত্র অবসেশান হলো জামাতিদের দুইটা গালি দিলে পিলিজ বিএনপিকেও অন্তত দুইটি গালি দিয়েন ভাইটি। নইলে আপনি কেমনে নিরপেক্ষ? এই প্রশ্নটা করতে পারলে গাণ্ডুমনি জান্নাতুল ফিরদাউস পাবে।

এদিকে যে এন্ডলেস কামড়াকামড়িতে ল্যাংটা হৈয়ে যাইতেছে - সেইদিকে খেয়ালই নাই। সবচাইতে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হলো বিএনপির। সবচাইতে বেশি মানুষ মারা গেল যেই দলের কর্মীদের, যেই দলের কর্মীদের বাই ফার সবচেয়ে বেশি ত্যাগ ফ্যাশিস্ট আমলে - সেই দল জুলাইকে এক প্রকার ওয়াকওভার দিয়ে দিছে কারণ এনসিপির জুলাই-ব্যবসা ব্যাকফায়ার করতেছে।

আনফাকিংবিলিভেবল!

আমাদের জীবনের সবচেয়ে গ্লোরিয়াস ইভেন্ট এতিম হইয়া যাইতেছে।

আমি বুঝে পাই না যে বিএনপির রাজনীতিটা একচুয়ালি কোথায়? ওয়ের ডু য়ু স্ট্যান্ড? আপনারা রিয়ালি ঠিক কোন বিষয়ে আমল করেন? দেখেন আমি এনসিপির কাছে কিছু এক্সপেক্ট করি না। না আছে তাদের জনসমর্থন, না আছে ম্যাচুরিটি। আর জামাতে ইসলামীর কোনো কর্মযজ্ঞের জন্য প্রয়োজনীয় হিউম্যান ক্যাপিটালই নাই - আছে কিছু জোকার। কিন্তু আপনাদের তো হিউম্যান ক্যাপিটাল আছে, পয়সা আছে, স্যাক্রিফাইস আছে। আপনারা কীভাবে জুলাইকে ওন করতে পারেন না? আপনারা কীভাবে ফেইল করেন? জুলাইয়ের ন্যাচরাল ও মোরাল অথরিটি হওয়ার কথা ছিল বিএনপির। আপনারা এর গুরুত্বই বুঝেন না। ভাবখানা এমন যে আপনারা যেন এলেকশান করার কারণে ক্ষমতায় আসছেন। আর কোনো কারণে না।

অগাস্ট মাসের ২ তারিখ আজকে। আমার ফেইসবুকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্র্যাকটিক্যালি অনুপস্থিত। আজকে কী দরকার ছিল এই অগাস্ট মাসে? যেমন করে হোক RAB এর বেনজিরকে দুবাই থেকে ধরে -বাইন্ধা ফিরায় আনা। দরকার হয় ৫টা স্টেট মিনিস্টারকে দুবাই পাঠাইতেন। আমরা জুলাই-পন্থীরা টকিং সাইকেল দখল করতাম। জুলাই রেলেভ্যান্ট থাকতো। আপনাদেরই সুনাম হইতো। আপনাদের পলিটিক্সই জিততো। কিন্তু আমার টাইমলাইনে কী দেখতিছি? কে কোন য়ুনিভার্সিটিতে কার.... আর কোন এমপি কার সাথে... ... গেছে? আর আমরা ঘৃণোদোনে এতোই মশগুল যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান যে নাই হৈয়ে যাইতেছে - কোনো হুশই নাই।

আমি সত্যিই বুঝে পাই না যে বিএনপির লোকজন কি দেশের উন্নয়ন করা আর নিজের রাজনীতি - দুইটাকে প্র্যাকটিক্যালি আলাদা করতে পারে কি না? পুরা দলটাই হয়ে গেছে মূল্যায়ন পার্টি। ১৭ বছর আমি এই করছি আর ঐ গোমাসা হৈছে - তাই আমার মূল্যায়ন করেন। এই সুযোগ আর ঐ পদ দেন। পুরা পার্টির ইন্টার্নাল রাজনীতি বলতে গেলে একটাই: তারেক রহমান সাহেবের নেক নজরে আসা - আর কিছুই না। আপনি আমাকে ৩টা লোক বলেন বিএনপির যে ৫ই অগাস্টের পর রাষ্ট্রযন্ত্র মারফত এক আনা সুবিধা নেননি, পাননি এবং চাননি কিন্তু তিনি পার্টি বা তারেক রহমানের কাছাকাছি? কোন লোকটা এই দলে ফিসাবিলিল্লাহ পার্টির? কেউ অস্বীকার করছে না যে বিএনপির নেতাকর্মীদেরই সবচেয়ে বেশি ত্যাগ। কিন্তু আপনি যদি এর বিনিময়ে কোনো ‘মূল্য’ চান তাহলে আগেরটা ত্যাগ থাকে কীভাবে?

আপনারা অনেকেই ভুলে গেছেন - আমি ভুলি নাই। ২০০৬ সালে যখন বিএনপির উপর নকবা নাজিল হৈছিল - ১০টা লোক খুঁজে পাওয়া যায় নাই ম্যাডামের পাশে দাঁড়ানোর। গত ১৫ বছর কয়টা লোক বিএনপির হয়ে এফেক্টিভলি কাজ করতো - আমরা জানি ভাই। খুদানাখাস্তা যদি এই ঘটনা আবার ঘটে - আবারো ১০টা লোক খুঁজে পাবেন না। পার্টির রিয়্যাল সাপোর্ট বেইজ হইলো ২৮শে অক্টবর যেই রিক্সাওলা - রিক্সা চালায় আসছিলো - সেই। গুলশান-বনানীর আমার ক্লাসের যেসব লোক এখন সবচেয়ে পাক্কা বিএনপি হৈছে - এদেরকে দুর্দিনে শুধু তারেক রহমানরে গালিই দিতে দেখবেন। জীবন থেকে নেওয়া ভাই। ০৬ এই দেখছি।

আপনারা যদি আপনাদের রাজনীতি ফিক্স না করতে পারেন - ভালো দিনে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু খারাপ দিনে রাজনীতি ছাড়া টিকতে পারবেন না। আজকে আপনারা মনে করতেছেন যে চিরকালই এমন যাবে। খারাপ দিন মোস্ট ডেফিনিটলি আসবে এবং সেইদিন আপনাকে রেলেভ্যান্ট রাখবে আপনার রাজনীতি।

ঐটা একটু করেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)