বিপুলের নির্দেশে মশাল মিছিল
স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর সদর উপজেলার রামনগরে মশাল মিছিলের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় ১৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এসআই ফজলুল হক বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশের ভাষ্য, সাবেক ছাত্রলীগ সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন বিপুলের নির্দেশে এই মিছিল হয়।
রোববার (২ আগস্ট) রাতে এ মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৃথক আরও দুটি মামলায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার আসামিরা হলেন, সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, সাবেক কাউন্সিলর হাজি সুমন, যুবলীগ নেতা সাইদুজ্জামান বাবু ওরফে দাঁতাল বাবু, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আতিকুর বাবু, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফন্টু চাকলাদার, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান লাইফ, দলেননগরের হবিবর রহমান, উপশহরের সাবেক চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু, উপশহরের মুনসুর আলী, হাদিউজ্জামান চিমা, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাজু, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না, ঝুমঝুমপুরের জাভেদ, বালিয়াডাঙ্গার রবিউল ইসলাম, সুলতানপুরের শেখ সোহরাব হোসেন, ধর্মতলার বাবু পালোয়ান, দেয়াড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান, চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামীম রেজা, লেবুতলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলিমুজ্জামান মিলন, কাজীপাড়ার আব্দুল্লাহ, নওদাগ্রামের শরিফুল ইসলাম, বাহাদুরপুরের কামরুজ্জামান, আমিরুল ইসলাম, কাশিমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান সাগর, ইব্রাহিম মেম্বার, জিরাট গ্রামের ইউসুফ, ঘোষপাড়ার টুটুল, মামড়াখোলার নুর-এ-আলম পলাশ, মীর আইয়ুব আলী, কচুয়ার মুক্ত খান, খোলাডাঙার টিটো গাজী, হুলিহট্ট গ্রামের আলমগীর হোসেন, খোলাডাঙার ‘শিশু শাকিল’, অন্তর, হ্যাচারিপাড়ার ছোটবাবু, সুজলপুরের গোপাল, যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম লাবু, পুরাতন কসবার কামাল হোসেন পর্বত, মনি, জোলা আমদাবাদের শরিফুল, সোহান, বাবলু, ওয়াসেল, রবি, জাহাঙ্গীর, আব্দুল্লাহ, সুজন, পট্টি, শফিকুল ইসলাম সুজন, শাওন, সবুজ, আরিফ, আহাদুল, ডাবলু, কাজীপাড়ার মিলন, ষষ্ঠিতলাপাড়ার আনোয়ার হোসেন বাবু, বেজপাড়ার সাগর, হৃদয়, সুজন, নিপু, আকাশ, রনি, খড়কির আক্তারুজ্জামান ডিকু, জিসান, কসবা দিঘীর গোলাম, কারবালার হাফেজ, বকচরের আলিফ, বকচর চৌধুরীপাড়ার সুলতান মাহমুদ পরান, আলিফ, নীলগঞ্জ রোডের ইব্রাহিম, বকচরের জুয়েল, একই এলাকার মাসুদ রানা, গুরগুল্লা মোড়ের সেলিম, ঘোপ বউবাজারের তামিম, ঘোপ বেলতলার হাসেম আলী, একই এলাকার সোহাগ, রাব্বী, ঘোপ কবরস্থান এলাকার পিয়াস, পাওয়ার হাউসপাড়ার লিখন, পুরাতন কসবার মইনুদ্দিন মিঠু, পুরাতন কসবার আরিফ, কামরুল ইসলাম, কাঁঠালতলার ‘টাক টুটুল’, পোলতাডাঙার বিপ্লব বকশী, খালধার রোডের জাহিদ হাসান টুটুল, বারান্দীপাড়ার কামাল হোসেন, কাজীপাড়ার জাহিদ হোসেন, ইকরামুল, আন্দুলপোতার ওহেদুল ইসলাম, ইমদাদুল সরদার, দলেননগরের রোকন হোসেন, সরোয়ার হোসেন, জোলা আমদাবাদের রবি, জামির, ডাবলু, তেঘরিয়ার জিয়াউর, সিরাজসিংহার ইকবাল মেম্বার, ডহরসিংহার শাহাজান, বাচ্চু, তাজমুল, কাজীপুরের মসলেম, সিরাজসিংহার মেহেদী হাসান মেম্বার, রামনগরের হাসানুর রহমান হাসু, মুকুল, টিপু, টুটুল, কামালপুরের নজরুল ইসলাম, রামনগরের রফিক মেম্বার, গোপালপুরের জাহিদুল রহমান পিন্টু, উপশহরের ইমরান হোসেন, রূপদিয়ার টুটুল, রামনগর বিহারি কলোনির ইমন, সাগর, রমজান, মোল্লাপাড়ার রাকিব, নরেন্দ্রপুর দফাদারপাড়ার আলমগীর হোসেন ভুট্টো, শ্রপদ্দী পূর্বপাড়ার হৃদয়, নরেন্দ্রপুর পোস্ট অফিসপাড়ার সবুজ, চাউলিয়ার মোর্তজা, জিরাট রেলগেটের ইউসুফ, চাউলিয়ার জাহিদ, ডুমদিয়া খালপাড়ার আবু তালেব, একই গ্রামের ইমরান হোসেন, নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়ার রিপন, হেলাঞ্চীর আব্দুল আলীম, মুরাদ উদ্দীন, দীপংকর কুমার, গোবিন্দপুরের হাসিবুর রহমান, বাঘারপাড়ার পান্তাপাড়ার মোহাম্মদ জিএম, রায়পুরের শেখ লিয়ন, সদর উপজেলার ডহরসিংহার মিজান।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার কাছে খবর আসে, রামনগর মুড়লী এলাকায় একদল যুবক রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তখনই তিনি সেখানে গিয়ে দেখতে পান, ১৮০ থেকে ২০০ জন নেতাকর্মী ১৫ আগস্ট ‘শোক দিবস’কে কেন্দ্র করে মশাল মিছিল করছে। এমনকি তারা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলো। পুলিশের মিছিলকারীরা টের পেয়ে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে জানা যায়, মিছিলটির সার্বিক আয়োজন করেছিলেন আনোয়ার হোসেন বিপুল। এ মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, পুরাতন কসবার ফারদিন দুর্জয়, ওহিদুল ইসলাম শেখ, ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের রাকিবুল রহমান, টালিখোলা পুলিশ লাইনের আল আমিন এবং মনোহরপুরের সম্রাট হোসেন।
এছাড়াও সোমবার রাতে আরও দুটি নাশকতা মামলায় আরও চারজনকে গ্রপ্তার করা হয়। তারা হলেন, পুরাতন কসবার সোহাগ খলিফা, সাবেক ইউপি মেম্বার নুরুল ইসলাম, কোদালিয়ার সাবেক ইউপি মেম্বার আকরাম হোসেন এবং সাবেক ইউপি মেম্বার ধোপাখোলা গ্রামের মইনুর রহমান।