শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্থানীয় তরুণদের ব্যবহৃত একটি সরকারি খেলার মাঠে ট্রাক্টর দিয়ে চাষের চেষ্টা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই নারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে চারজনকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পৌরসভার দেবালয় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেবালয় মৌজার প্রায় ১৮ বিঘা সরকারি জমির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন ব্যক্তি ভোগদখল করে আসছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি ও প্রশাসনের উদ্যোগে কয়েক মাস আগে ওই জমির আট বিঘা অংশ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।
এরপর থেকে এলাকার তরুণেরা সেখানে নিয়মিত ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলা করে আসছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত ব্যক্তিদের অভিযোগ, সোমবার সকালে তিনটি ট্রাক্টর নিয়ে একদল লোক মাঠে প্রবেশ করে চাষ শুরু করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে নারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে আহসান হাবীব (১২), রাশিদুল ইসলাম (২৭), সাইমুম (১৯) ও আবু হানিফা (১৮) শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
অন্য আহতরা হলেন মরিয়ম খাতুন (২৩), আয়েশা বেগম (৪২), শাহাজালাল (১৮), সাইদ (৩০), সাগর (২০), রেজাউল (৩৫), মিজান (৩২), শাহিন (২৪) ও মোস্তাফিজুর (২৭)।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘যে জায়গাটিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলা করছি, সেখানে হঠাৎ ট্রাক্টর দিয়ে চাষ শুরু করা হয়। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।’
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলার নেতৃত্ব দেন সাবেক সংসদ সদস্য ও শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল হক দোলনের চাচাতোভাই সাইফুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রমজান আলী বলেন, ‘সেখানে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি, শুধু সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। জমিটি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দখলে রয়েছে। তাই আমরা চাষ করেছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাইফুল ইসলামের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন বলেন, ‘জমিটি সরকারি। স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এর একটি অংশ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
সোমবার কয়েকজন ব্যক্তি ট্রাক্টর নিয়ে সেখানে চাষ করতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেন। এরপর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে।