সুবর্ণভূমি ডেস্ক
বাগেরহাটের মোংলা বন্দ নতুন অ্যাংকোরেজ চালুর ফলে আমদানি-রপ্তানি ও কার্গো হ্যান্ডেলিং কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। ফলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরটি রেকর্ড গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালজুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৯ মাসে ৩৯টি বিদেশি কনটেইনারবাহী জাহাজের মাধ্যমে মোট ২৫ হাজার ২৫০ টিইইউ (TEU) কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করা হয়েছে, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এর সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৪৫৬ টিইইউ। একই সময়ে বিদেশি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত অর্থবছরে ১১ হাজার ৫৭৯টি গাড়ি আমদানি হলেও চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ২২টি জাহাজে করে এসেছে ৯ হাজার ১৬০টি গাড়ি।
কার্গো হ্যান্ডেলিংয়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। আলোচ্য সময়ে মোট ১ কোটি ৮ লাখ ১৮ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডেলিং হয়েছে। বছরে দেড় কোটি মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডেলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চলতি অর্থবছরেই তা অর্জিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হিরণ পয়েন্ট এলাকায় ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনটি নতুন অপারেশনাল অ্যাংকোরেজ বার্থ চালু করা হয়। এর ফলে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ সহজেই নোঙর করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে। ইতোমধ্যে ৯ মিটার গভীরতার ৩৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ দিয়ে এসব বার্থে সফল ট্রায়াল অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. মাকরুজ্জামান জানান, গত অর্থবছরে ৮৩০টি জাহাজ বন্দরে ভিড়লেও চলতি অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে ৮৬০ থেকে ৮৭০-এ পৌঁছাতে পারে। ইতোমধ্যে সাড়ে ৯ মাসে ৬৯৯টি জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে।
বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান আমার দেশকে বলেন, নতুন অ্যাংকোরেজ চালুর ফলে জাহাজ হ্যান্ডেলিং সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানিকারকেরা দ্রুত ও সহজে সেবা পাবেন। এতে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।