সৈয়দ শাহ মোস্তফা হাসমী
, যশোর
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার মোকাম যশোরের ঐতিহ্যবাহী রাজারহাটে পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী প্রথম হাটেই চামড়া নিয়ে আসতে শুরু করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (৩০ মে) ফজরের নামাজের পর থেকেই খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে পশুর চামড়া কেনাবেচার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা হাটে জড়ো হন।
তবে আড়তদাররা যথাসময়ে আড়ত না খোলায় এবং বাজারে চামড়ার কাঙ্ক্ষিত দাম না থাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোরবানির পরপরই চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু হলেও ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং শ্রমিকদের চড়া মজুরির কারণে বাজারে চামড়ার কোনো চাহিদা নেই।
ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
রেজাউল ইসলাম নামে এক মৌসুমি ব্যবসায়ী জানান, তিনি ১২০টি গরুর চামড়া নিয়ে হাটে এসেছেন। দরদাম চললেও কোনো কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। বলতে গেলে চামড়ার কোনো দামই উঠছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি ও পাইকারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সত্য। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে চামড়া বিক্রি হলে ব্যবসায়ীরা এক হাজার ২৫০ টাকার বেশি দাম পেতেন।
কিন্তু আমরা নিজেরাও ট্যানারিমালিকদের কাছে সরকারি বেঁধে দেওয়া দামে চামড়া বিক্রি করতে পারছি না। ফলে বাজারে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’
এদিকে, চামড়ার বাজারে ধস নামায় সীমান্ত দিয়ে ভারতে চামড়া পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পাচার রোধে যশোরের শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পোর্ট থানার ১০২ কিলোমিটার সীমান্তের শিকারপুর, কাশিপুর, গোগা, রুদ্রপুর, অগ্রভুলোট, পাঁচভুলোট, দাঁদখালি, পুটখালি, দৌলতপুর, সাদিপুর, রঘুনাথপুর ও ঘিবা সীমান্তকে 'চামড়া পাচারের রুট' হিসাবে চিহ্নিত করে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চামড়া পাচার ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ করে রাতের টহল দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাইকিং করে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
৩০ বছর ধরে চামড়ার ব্যবসা করা যশোর সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের পাগল চাঁদ বলেন, 'সরকার বেধে দেওয়া দামে কখনো চামড়া বেচাকেনা হয় না। এবারও আমরা পিস হিসেবে চামড়া কিনেছি, পিস হিসেবে বিক্রি করছি। সরকারি রেট আমার জানা নেই।'
শুক্রবার (২৯ মে) ঈদের পর পাগল চাঁদ গ্রাম ঘুরে ৫০টি গরু এবং ৬০টি ছাগলের কাঁচা চামড়া কিনেছেন। এসব চামড়া লবণ মাখিয়ে রাখা হয়েছে। সেগুলোই শনিবার হাটে তুলেছেন বলে তিনি জানান।
সরকারের বেধে দেওয়া দামে চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে কি না, সেটি তদারক করার দায়িত্ব কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা বলেন, 'সরকারের বেধে দেওয়া কাঁচা চামড়ার দাম ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য বাজার তদারকি করা হচ্ছে।
আমরা বাজারে গিয়ে আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে সচেতন করেছি।
আগামী ১৫ দিন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রাজারহাট চামড়ার মোকামে গিয়ে তদারকি করবে। সরকারি রেটে চামড়া বেচাকেনা না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'