সুবর্ণভূমি ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।
গ্রেপ্তারের আগে ভিডিও বার্তায় যা বললেন আখতারুজ্জামান
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে একটি ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশে দোয়া চেয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান। ভিডিওতে তিনি সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ভিডিও বার্তায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাকে এই মুহূর্তে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু আপনাদের সবাইকে জানিয়ে গেলাম। দোয়া করবেন, আমি যেন জনগণের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে প্রবাসী ভাইদের স্বার্থ রক্ষার জন্য শহীদ হতে পারি।’
জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াই অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের অধিকারের সংগ্রামে আমি আছি, থাকবো এবং আজীবন থাকবো। যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন জনগণের পাশে থাকবো, জনগণের জন্য সংগ্রাম করবো এবং জনগণের জন্য এই জীবন ত্যাগ করবো।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে সোচ্চার হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এ ঘটনার জেরে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
বিশৃঙ্খলার অভিযোগে মামলাে
এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) যাত্রীদের চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে যান। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গালাগাল করেন এবং হুমকি দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন। এ সময় তাকে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে থাকা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দেওয়া এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় বিমানবন্দরের মতো সংরক্ষিত ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। এতে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২২ সালে তাকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন তিনি।