রাব্বি আল-আমিন
, যশোর
যশোর-৩ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চাকরি পাওয়ার জন্য দলীয় পরিচয় লাগবে না, যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি। আমরা চাকরির বাজারকে উন্মুক্ত করতে চাই, যেখানে মেধাবীরা তাদের প্রাপ্য সম্মান পাবে।
সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় যশোর পৌর উদ্যানে আয়োজিত নতুন ও তরুণ ভোটারদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সভায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি), যশোর মেডিকেল কলেজ, এম এম কলেজসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ছিলেন জুলাইযোদ্ধারাও।
সভায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট, ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে।
জবাবে অমিত তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, প্রতিটি তরুণ যাতে পরনির্ভরশীল না হয়ে নিজেই উদ্যোক্তা হতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। তারেক রহমান ২০১৪ সালেই বলেছিলেন, মেধা কখনো কোটার চেয়ে কম হতে পারে না।
‘আমরা মেধার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন নিশ্চিত করবো। মাস্টার্স পর্যন্ত মেয়েদের পড়ালেখা অবৈতনিক করা হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও সুযোগ বৃদ্ধিতে কাজ করবে বিএনপি।’
তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে দেশকে এগিয়ে নিতে আইটি সেক্টরে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
প্রয়াত জননেতা তরিকুল ইসলামের অবদানের কথা স্মরণ করে তার ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমার পিতা যবিপ্রবি ও মেডিকেল কলেজসহ যশোরের বহু উন্নয়ন করে গেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা ক্ষমতায় এলে যশোরে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবো।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যশোর সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদক ও সন্ত্রাস একটি বড় সমস্যা। আমি নির্বাচিত হলে যশোরকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করবো। এতে আমার দল বা পরিবারের কেউ জড়িত থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না; তাদের জায়গা হবে জেলখানায়।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত আমলে প্রশ্ন ফাঁস ও নকলের মহোৎসব চলেছে, যা মেধাবীদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির সময় নকল ও প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সমালোচনা করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘নারীকে ঘরে আটকে রেখে বা তাদের শিক্ষার পথ বাধাগ্রস্ত করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাদের চাকরির কর্মণ্টা কমাতে চাই। বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠী নারী। তাদের মধ্যে আবার ভোটারদের ৫১ শতাংশ নারী। আমরা বিশ্বাস করি নারীকে ঘরে আটকে রেখে, তার শিক্ষায় বাধা সৃষ্টি করে বাংলাদেশ এগোতে পারবে না। আমার দল পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা প্রদান করবো।’
মতবিনিময় সভায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওমর ফারুক তারেক, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পি, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনেওয়াজ ইমরান এবং এম এম কলেজের সাবেক আহ্বায়ক হাসান ইমাম।
সভা শেষে তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন যে, তরুণ প্রজন্মের মতামত ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়েই বিএনপির আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।