তসলিম শিমুল
ফুটবল বিশ্বে জিনেদিন জিদান একটি কিংবদন্তির নাম। ফ্রান্সকে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ও ২০০০ সালের ইউরো জেতানো এই তারকা খেলোয়াড় শুধু মাঠেই নয়, কোচ হিসেবেও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা শুধু জিদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তার চার ছেলেও পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে বলা যায়, জিদান পরিবারে ফুটবল যেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে প্রবাহিত একটি ঐতিহ্য।
জিদানের চার ছেলে- এনজো, লুকা, থিও ও এলিয়াজ- প্রত্যেকেই ফুটবলকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তবে বাবার মতো সবাই মিডফিল্ডার হননি। বরং নিজেদের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলতে ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে খেলছেন।
সবচেয়ে বড় ছেলে এনজো জিদান একজন মিডফিল্ডার। বাবার পথ অনুসরণ করে তিনি মাঝমাঠে খেললেও জিনেদিন জিদানের মতো উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়তে পারেননি। রিয়াল মাদ্রিদের যুব অ্যাকাডেমিতে বেড়ে ওঠা এনজো বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন এবং দীর্ঘদিন পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
দ্বিতীয় ছেলে লুকা জিদান বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ। তিনি একজন গোলরক্ষক। রিয়াল মাদ্রিদের যুব দলে বেড়ে ওঠা লুকা বর্তমানে স্পেনের ক্লাব ফুটবলে খেলছেন। সম্প্রতি তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে আলজেরিয়া দলে ডাক পেয়ে আলোচনায় এসেছেন। ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে খেলার পর শেকড়ের টানে তিনি আলজেরিয়াকে নিজের দল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
তৃতীয় ছেলে থিও জিদান একজন মিডফিল্ডার। তিনি ফ্রান্সের যুব পর্যায়ের ফুটবলে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন এবং ধীরে ধীরে পেশাদার পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সবচেয়ে ছোট ছেলে এলিয়াজ জিদান একজন ডিফেন্ডার। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনিই রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। শক্তিশালী ডিফেন্ডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে অংশ নিচ্ছেন।
চার ভাইয়ের একটি বড় মিল হলো, প্রত্যেকেই ফ্রান্সের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউই ফ্রান্সের সিনিয়র জাতীয় দলে নিয়মিত জায়গা করে নিতে পারেননি। এর মধ্যে লুকাই প্রথম, যিনি সিনিয়র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিন্ন দেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফুটবল ইতিহাসে অনেক বিখ্যাত খেলোয়াড়ের সন্তানদের মাঠে দেখা গেলেও, একই পরিবারের চার সন্তানকে পেশাদার ফুটবলে দেখা বিরল ঘটনা। জিনেদিন জিদানের পরিবার সেই ব্যতিক্রমী উদাহরণগুলোর একটি।
কিংবদন্তি বাবার ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজেদের পরিচয় গড়ে তোলার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন চার ভাই। কেউ গোলপোস্টের নিচে, কেউ মাঝমাঠে, আবার কেউ রক্ষণভাগে। তবে পজিশন ভিন্ন হলেও একটি বিষয় সবার মধ্যে অভিন্ন- ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা। আর সেই কারণেই জিদান পরিবারকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত ফুটবল পরিবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
লেখক: ক্রীড়ালেখক