স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিশ্বকাপের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে একবারও বল স্পর্শ করতে না পারায় স্পেনের ফরোয়ার্ড মিকেল অর্জাবালকে ঘিরে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে হাস্যরস, ট্রল এবং নানা ধরনের বিদ্রূপ ছড়িয়ে পড়ে। সেই ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে হতাশ করে স্পেনও।
তবে ফুটবলে সময় যে কত দ্রুত বদলে যেতে পারে, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন অর্জাবাল। সমালোচনার জবাব তিনি দিয়েছেন মাঠের খেলায়। গ্রুপপর্বের পরের ম্যাচেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। জোড়া গোল করে দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি এবং ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও অর্জন করেন। সেই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও গোল করেন অর্জাবাল।
এতে চলমান বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনে, যা এখন স্পেন দলের সর্বোচ্চ। যে ফুটবলারকে টুর্নামেন্টের শুরুতে ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে দেখানো হচ্ছিল, তিনিই এখন স্পেনের আক্রমণভাগের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মুখ।
অর্জাবালের এই প্রত্যাবর্তন আবারও মনে করিয়ে দিলো, ফুটবলে একটি ম্যাচ বা একটি মুহূর্ত দিয়ে কোনো খেলোয়াড়কে বিচার করা যায় না। কঠিন সময়ের পর ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে প্রকৃত তারকার পরিচয়।
বিশ্বকাপের পথচলা এখনও অনেক বাকি। তবে এখন পর্যন্ত অর্জাবালের দৃষ্টান্ত নিঃসন্দেহে টুর্নামেন্টের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়।
শেষ পর্যন্ত ফুটবল যেন আবারও সেই চিরন্তন সত্যটাই মনে করিয়ে দিলো- সময়ই সবচেয়ে বড় উত্তরদাতা। সময় ক্ষত সারায়, সময় বদলে দেয় মানুষের ধারণা, আর সময়ই একজন সমালোচিত ফুটবলারকে পরিণত করে জাতীয় দলের নায়কে।