স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
মাত্র এক দশকের ব্যবধানে ফুটবলের মানচিত্র বদলে দিয়েছে মরক্কো। ২০১৫ সালে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৯২ নম্বরে থাকা অ্যাটলাস লায়ন্সরা আজ বিশ্বের ষষ্ঠ ফুটবলশক্তি।
সঠিক পরিকল্পনা ও যোগ্য ফুটবলারদের মূল্যায়নের মাধ্যমে আফ্রিকার এই দেশটি এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি।
২০১৮: বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘ ২০ বছর পর ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছিল মরক্কো। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও ইউরোপিয়ান দলগুলোর সঙ্গে সমান তালে লড়াই করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করে দলটি।
২০২২: সেমিফাইনালে ইতিহাস
কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে মরক্কো। স্পেন ও পর্তুগালের মতো ইউরোপের শক্তিশালী দলকে বিদায় করে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলে তারা।
২০২৬: র্যাঙ্কিংয়ে অসাধারণ উন্নতি
সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ বিশ্বকাপের মাঝপথে এসে মরক্কো এখন ফিফার র্যাঙ্কিংয়ে ৬ নম্বরে। আচরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজের মতো ইউরোপে খেলা তারকাদের সঙ্গে ঘরোয়া প্রতিভাদের সমন্বয়ই এই সাফল্যের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
র্যাঙ্কিংয়ে এতো দ্রুত উন্নতির উদাহরণ সমসাময়িক বিশ্ব ফুটবলে নেই। মরক্কোর এই উত্থান প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ফুটবলে যে কোনো কিছুই সম্ভব।
মরক্কোর এই স্কোয়াডের ২৬ জনের মধ্যে মাত্র আট জন মরক্কোতে জন্মেছেন এবং বাকি ১৮ জনেরই জন্ম অন্য কোনো দেশে। এদের মধ্যে স্পেনে পাঁচ জন, ফ্রান্সে পাঁচ জন, নেদারল্যান্ডসে তিন জন, বেলজিয়ামে তিন জন এবং কানাডা ও জার্মানিতে একজন।
আটলাসের সিংহ নামে পরিচিত মরক্কো দলটি দারুণ পরিকল্পনা করে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মরক্কো বংশোদ্ভুতদের নিয়ে দল সাজিয়েছে। বিশ্বের সেরা লিগগুলোতে খেলা খেলোয়াড়দের মরক্কোর হয়ে খেলার জন্য দেশটি উদ্যাগ নিয়েছে।
মরক্কোর এই উত্থান ছিল বহু বছরের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ফল। ২০০৮ সালে মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ দেশটির ফুটবলের উন্নয়নে একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় প্রকল্প হাতে নেন। এর অধীনে রাজধানী রাবাতের কাছে আন্তর্জাতিক মানের 'মোহাম্মদ ষষ্ঠ ফুটবল অ্যাকাডেমি' গড়ে তোলা হয়। এই বিশ্বমানের অ্যাকাডেমি থেকেই উঠে আসেন ইউসুফ এন-নেসিরি, নায়েফ আগুয়ের্দ এবং আজুদিন উনাহির মতো কাতার বিশ্বকাপের মূল তারকারা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় প্রবাসী প্রতিভারা।