স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিশ্বকাপে নায়ক হওয়ার জন্য সবসময় শুরুর একাদশে নামতে হবে- এমনটি না। কখনও কখনও বেঞ্চ থেকেই নেমে একজন ফুটবলার বদলে দিতে পারেন পুরো ম্যাচের চিত্র। স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো যেন সেই সত্যই প্রমাণ করে চলেছেন।
পর্তুগালের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে নেমে জয়সূচক গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আর এবার বেলজিয়ামের বিপক্ষেও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি।
লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে ম্যাচ তখন ১-১ সমতায়। সময় গড়িয়েছে ৮৬ মিনিট। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে শেষ অস্ত্র হিসেবে মাঠে নামালেন মিকেল মেরিনোকে। মাত্র দুই মিনিট পরই এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
নিকো উইলিয়ামসের শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষক। কিন্তু ফিরতি বলের ওপর সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়েন মেরিনো। এক মুহূর্তও দেরি না করে জড়িয়ে দেন জালে। ৮৮ মিনিটের সেই গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন, আর নিশ্চিত হয় ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত স্পেনের সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস হয়ে উঠেছেন এই ৩০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। শুরু থেকে না খেলেও, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মাঠে নেমে ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দেওয়ার বিরল ক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি। তাই সমর্থকদের মুখে এখন একটাই নাম- ‘সুপার সাব’ মিকেল মেরিনো।
তবে মেরিনোর গোলের পেছনে আরেকটি বড় গল্প রয়েছে। বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর স্পেনের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। বদলি গোলরক্ষক সেন্নি লামেনস কয়েকটি বল সামলালেও শেষ পর্যন্ত মেরিনোর দ্রæত সিদ্ধান্ত আর নিখুঁত ফিনিশিং ঠেকাতে পারেননি।
এদিকে পুরো ম্যাচে স্পেনের আক্রমণের প্রাণ ছিলেন ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোল পাননি তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইয়ামালের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আক্রমণ আর মেরিনোর দুর্দান্ত ফিনিশিং স্পেনকে পৌঁছে দেয় বিশ্বকাপের শেষ চারে।
এখন স্পেনের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ফ্রান্স। তবে পরপর দুই নকআউট ম্যাচে বেঞ্চ থেকে নেমে জয়সূচক গোল করা মিকেল মেরিনো প্রমাণ করে দিয়েছেন বড় মঞ্চে নায়ক হতে ৯০ মিনিটের দরকার হয় না, দরকার শুধু একটি নিখুঁত ফিনিশিং।