স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সহযোগিতায় যশোর স্টেডিয়ামে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন তিনটি সেন্টার ক্রিকেট উইকেট দুর্বৃত্তদের তাণ্ডবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে কে বা কারা নির্মাণাধীন উইকেটের ওপর উঠে হাঁটাহাঁটি ও লাফালাফি করে পুরো উইকেট নষ্ট করে দেয়। এতে শেষ পর্যায়ে থাকা নির্মাণকাজ ব্যাহত হয়েছে এবং নতুন করে সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
উইকেট নির্মাণ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত অন্যতম কর্মকর্তা ও ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব এএফএম মইনুদ্দিন রোম বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সহযোগিতায় অত্যন্ত যত্নসহকারে এই উইকেট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু শুক্রবার বিকেলে কে বা কারা উইকেটের ওপর উঠে তাণ্ডব চালিয়ে পুরো পৃষ্ঠটি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এতে উইকেটের সমতল অবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় শুধু সময়ই নয়, প্রকল্পেরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন যশোর স্টেডিয়ামে দিনের বেলায় কোনো প্রহরীর ব্যবস্থা নেই। ফলে মাঠটি দিনের অধিকাংশ সময়ই কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। স্টেডিয়ামের প্রাচীর টপকে প্রতিদিনই অনেক মানুষ মাঠে প্রবেশ করে খেলাধুলা করেন। যা কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে মাদক সেবনের ঘটনাও ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার এমন শিথিল অবস্থার কারণে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন স্থাপনা ও ক্রীড়া অবকাঠামো ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।
ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, যশোরের ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নে বিসিবির অর্থায়নে নির্মিত এই উইকেট জেলার ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারতো। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় দুর্বৃত্তরা সহজেই নির্মাণাধীন উইকেটে তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেয়েছে। এ ঘটনায় শুধু একটি উইকেটই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং বিসিবির অর্থে বাস্তবায়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্পও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব এএফএম মাইনুদ্দিন রোম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দিনের বেলায় স্থায়ী প্রহরী নিয়োগ, স্টেডিয়ামে অবাধ প্রবেশ বন্ধ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সর্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তার মতে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও যদি সেগুলোর ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তাই যশোর স্টেডিয়ামের ক্রীড়া অবকাঠামো রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।