স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনা টেলিভিশনের পর্দায় নয়, ছড়িয়ে পড়েছে যশোরের খুদে ফুটবলারদের মাঝেও। ছোট্ট পায়ে বড় স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছে সাত থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে শহরের আরএন রোড ক্রীড়াচক্রের মাঠে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘রিপন অটোস জুনিয়র বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬’।
শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন ঘিরে পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন তার বক্তব্যে ক্রীড়াঙ্গনের স্থবিরতা দূর করা এবং শিশুদের মাঠমুখী করার ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে, খেলার সময়ে কোচিং সেন্টারের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘‘ক্রীড়াঙ্গনের দিকে তাকালে দেখবেন অনেকদিন ধরে একটি স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। খেলাধুলার বিকাশ ঘটানোর জন্য যাদের মূল দায়িত্ব, তাদের ভূমিকা আসলে অত্যন্ত নেতিবাচক। কিন্তু তারপরেও, ‘রিপন অটোস’-এর সহযোগিতায় এই মাঠে অনেকদিন ধরে বিভিন্ন খেলা চলছে। আজকের এই বিশ্বকাপে ১৬টি টিম সুন্দরভাবে সেজেছে, তাদের দেখতে অত্যন্ত সুন্দর লাগছে। এই আয়োজনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যারা দীর্ঘ পরিশ্রম করছেন, তাদের অভিনন্দন জানাই।”
তিনি আরও বলেন, এটি (আরএন রোড) একটি ব্যবসায়িক এলাকা। পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এখনকার সময় কোনো খেলা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই রিপন অটোসের মতো অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও যদি খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসেন, তাহলে আরো ভালো ভালো টুর্নামেন্ট করা সম্ভব হবে।
সরকারের ক্রীড়াবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের খেলাধুলার মধ্যে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের প্রেক্ষিতে আজকের এই টুর্নামেন্টটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’
অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এবং কোচিং সেন্টারের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, ‘বাচ্চাদের খেলাধুলার মধ্যে মনোনিবেশ করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কোচিং সেন্টারগুলো। স্কুলের ক্লাসে না গেলেও চলে, কিন্তু কোচিংয়ে যেতেই হবে- এমন একটি অবস্থা তৈরি হয়েছে। অভিভাবকরাও বাচ্চাদের কোচিং মিস করতে দিতে চান না। এখন খেলার সময় কোচিং থাকলে বাচ্চারা খেলবে কী করে? অথচ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাচ্চাদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’
আয়োজকরা জানান, বাছাই কার্যক্রম শেষে ২৪০ জন শিশুকে নিয়ে বিশ্বের জনপ্রিয় ১৬টি দেশের জাতীয় আদলে ১৬টি দল গঠন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী দিনে চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়; যার প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও ব্রাজিল এবং দ্বিতীয় ম্যাচে লড়াই করে ইংল্যান্ড ও মিশর। এছাড়াও ফ্রান্স আর্জেন্টিনা এবং স্পেন বনাম জাপান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী দিনে খেলার ফলের চেয়ে মাঠজুড়ে ছিল শিশুদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর প্রতিযোগিতার স্পৃহা। মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে সন্তানদের করতালিতে উৎসাহ দিচ্ছিলেন শত শত অভিভাবক ও স্থানীয় ক্রীড়ামোদীরা।
দর্শকদের ভাষ্য, এমন আয়োজন শিশুদের মোবাইল ও অনলাইননির্ভর জীবন থেকে বের করে আবার মাঠমুখী করতে অনবদ্য ভূমিকা রাখবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মনসুর আলীর সভাপতিত্বে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান ও আরএন রোড ক্রীড়াচক্রের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বিপ্লব।
স্বাগত বক্তব্য দেন রিপন অটোসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সুবর্ণভূমির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আইয়াজ উদ্দীন রিপন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এজাজ উদ্দীন টিপু।
আলোচনা পর্ব শেষে বেলুন উড়িয়ে জুনিয়র বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন অতিথিরা।