তসলিম শিমুল
, যশোর
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে আন্দ্রেস এস্কোবার হত্যাকাণ্ড ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা। ৩২ বছর পর সেই দুঃসহ স্মৃতিই যেন আবার ফিরে এসেছে কলম্বিয়ার ফুটবলে। এবার প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন কলম্বিয়ার ২৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার জামিন্টন কাম্পাজ। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, তিনি আপাতত নিজ দেশে ফিরতে চাইছেন না।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-তে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কলম্বিয়ার ম্যাচে| নির্ধারিত সময় গোলশূন্য ড্র থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া। টাইব্রেকারে কলম্বিয়ার দুই ফুটবলার শট মিস করলেও কাম্পাজ নিজের শট থেকে গোল করেন।
তবুও সমালোচনার কেন্দ্রে তিনিই। কারণ, অতিরিক্ত সময়ে তিনি একটি সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেছিলেন। অনেক কলম্বিয়ান সমর্থকের দাবি, সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচ টাইব্রেকারে যেত না এবং দলও হয়তো বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিত না। এই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাম্পাজকে লক্ষ্য করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে আর্জেন্টিনার ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে খেলা কাম্পাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় লিখেছেন, ‘ফুটবলে কঠিন মুহূর্ত আসবেই। প্রিয় কলম্বিয়া, দয়া করে নিজের মর্যাদা হারিও না। আমাদের মতভেদ থাকতে পারে, হতাশা বা কষ্ট প্রকাশের ধরনও ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু কোনো আবেগই ঘৃণা ছড়ানো বা কাউকে ভয় নিয়ে বাঁচতে বাধ্য করার কারণ হতে পারে না।’
এদিকে কলম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘কোনো ক্রীড়াবিদ বা তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। ফুটবল ঐক্য, সম্মান এবং আশার প্রতীক। এটি কখনো ভয়ভীতি, হুমকি বা সহিংসতার জায়গা হতে পারে না।’
এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে কলম্বিয়ার ফুটবল ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ের কথা। ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ম্যাচে আত্মঘাতী গোল করেছিলেন ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এস্কোবার। সেই ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া। দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই মেডেলিন শহরে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন এস্কোবার। সেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে আজও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে স্মরণ করা হয়।
তিন দশকেরও বেশি সময় পর আবারও এক কলম্বিয়ান ফুটবলারের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি ফুটবল বিশ্বকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। খেলাকে ঘিরে উন্মাদনা থাকলেও, সেটি যেন কখনোই ঘৃণা, সহিংসতা বা একজন ক্রীড়াবিদের জীবনের জন্য হুমকিতে পরিণত না হয়—এমন আহ্বানই জানাচ্ছে ফুটবল অঙ্গন।