যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বাজারে ভারতীয় ইলিশ, চালানো হচ্ছে মিয়ানমারের নামে

শাহারুল ইসলাম ফারদিন

, যশোর

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১০:০০ এ এম
বাজারে ভারতীয় ইলিশ, চালানো হচ্ছে মিয়ানমারের নামে

বেনাপোল স্থলবন্দরের কাগজপত্রে ভারতীয় ইলিশ। কিন্তু বন্দর পেরিয়ে যশোরের বাজারে যাওয়ার পর এসব মাছের একটি অংশ পরিচিত হচ্ছে ‘মিয়ানমারের ইলিশ’ নামে। একই মাছের উৎস নিয়ে সরকারি তথ্য ও বাজারের প্রচলিত পরিচয়ের এই পার্থক্য তৈরি করেছে প্রশ্ন।

এর মধ্যে গত দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে এসেছে তিন লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ। আমদানি করা হয়েছে ২২টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে এসব ইলিশ আমদানি হয়। জুলাইয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসেছে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি। আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানি হয়েছে তিন লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি। দুই মাসের মোট আমদানির ৯১ দশমিক ৬৬ শতাংশই এসেছে আগস্টে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল দিয়ে তিন লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। জুলাইয়ে তিনটি এবং আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠান এসব মাছ আমদানি করেছে।

আমদানির পরিমাণের হিসাব বলছে, জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে দুই লাখ ৯৩ হাজার ৯০৬ কেজি বেশি ইলিশ এসেছে। অর্থাৎ, এক মাসে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১০ দশমিক ৯৮ গুণ। জুলাইয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ৯৫০ কেজি ইলিশ এলেও আগস্টে এই গড় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দশ হাজার ৪৩০ কেজিতে।

দুই মাসে আমদানি করা ইলিশের ঘোষিত মূল্য ছয় কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজির মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। আগস্টে তিন লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজির মূল্য ছয় কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা। দুই মাসের হিসাবে প্রতি কেজি ইলিশের গড় ঘোষিত মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৯৬ টাকা।

বেনাপোল স্থলবন্দর উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, জুলাইয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠান ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে। আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসেছে তিন লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি। দুই মাসে মোট আমদানি হয়েছে তিন লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি।

তবে বন্দর দিয়ে বৈধভাবে ভারতীয় ইলিশ আসার পাশাপাশি মাছের পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ধরনের তথ্য। স্থানীয় কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ীর দাবি, বাজারে যে বড় আকারের কম দামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর একটি অংশ মিয়ানমারের মাছ। তাদের ভাষ্য, এসব মাছ মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

অন্যদিকে, বেনাপোল ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বেনাপোল দিয়ে আমদানি করা ইলিশ ভারতীয়। মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ইলিশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে।

আরেকটি ঘটনায় বেনাপোল দিয়ে ইলিশ আনার ক্ষেত্রে ঘোষণার গরমিলের প্রমাণও মিলেছে। গত ২২ জুলাই সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে ১২ কার্টন বা প্রায় ৩৬০ কেজি ভারতীয় ইলিশ আনা হয়। পরে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মাছগুলো জব্দ করে।

দুই মাসে বৈধভাবে আমদানি করা তিন লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশের তুলনায় ৩৬০ কেজি মাছ মাত্র শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ। এছাড়াও, জুলাইয়ে যেখানে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান ইলিশ আমদানি করেছে, আগস্টে আমদানিকারকের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯। এক মাসে আমদানিকারকের সংখ্যা বেড়েছে ১৬টি। একইসঙ্গে মাসিক আমদানি বেড়েছে প্রায় দুই লাখ ৯৩ হাজার ৯০৬ কেজি।

২২টি প্রতিষ্ঠানের নামের মধ্যে বেনাপোল, যশোর, বাগআঁচড়া, ঢাকা, খুলনা, সাতক্ষীরা ও পাবনার প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যশোরের বাজারে এক কেজি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ প্রতি কেজি তিন হাজার ৩০০ থেকে তিন হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিপরীতে এক কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের বিদেশি ইলিশের দাম প্রায় এক হাজার ৪০০ টাকা কেজি। কেজিতে দামের ব্যবধান প্রায় এক হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার টাকা। আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজির গড় ঘোষিত মূল্য প্রায় ১৯৬ টাকা বিবেচনায় নিলে আমদানি মূল্য থেকে বাজারে বিক্রির দামে প্রায় এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।

বন্দর দিয়ে আসা ইলিশের একটি অংশ যশোরের বেনাপোল, শার্শা, বাগআঁচড়া ও নাভারনের বাজার হয়ে যশোর বড় বাজারে যাচ্ছে। বড় বাজারের পদ্মা ফিস, গৌরব ফিস, মেসার্স তিতাস ফিস ও মেসার্স জামান ফিসসহ কয়েকটি আড়তে এসব মাছ ওঠার তথ্য পাওয়া গেছে।

মেসার্স শেখ পিয়ারু ফিসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ পিয়ারু বলেন, এসব মাছ মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে দেশে আসছে বলে তিনি জানেন। কম দামে বড় মাছ পাওয়ায় ক্রেতারা এসব মাছ কিনছেন।

দেশি ইলিশ ব্যবসায়ী সত্যপদ, এরশাদ ও মো. আলমগীর বলেন, বিদেশি ইলিশের কারণে দেশি ইলিশের বিক্রি কমেছে। ক্রেতারা দাম কম হওয়ায় বিদেশি মাছের দিকে ঝুঁকছেন। এতে দেশি ইলিশ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বেনাপোল কাগজপুকুর এলাকার বাসিন্দা ওহেদুজ্জামান বলেন, দেশি ইলিশ মনে করে তিনি একটি মাছ কিনেছিলেন। পরে খাওয়ার পর স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য বুঝতে পারেন। তার মতে, দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতার পক্ষে দেশি ও বিদেশি ইলিশ আলাদা করা কঠিন।

যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, তারা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করেন। তবে, ব্যবসায়ীরা আমদানি করা মাছ দেশি বলে বিক্রি করলে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ বিষয়টি মৎস্য আইনের আওতায় পড়ে না।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, আমদানি করা ইলিশ অবশ্যই ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করতে হবে। ভারত থেকে আমদানি করা মাছকে ভারতীয় ইলিশ হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে বাজার পরিদর্শন করা হবে। প্রয়োজন হলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)