যশোর, বাংলাদেশ || শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

কৃষকের গোলায় বীজ নেই

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

, ঝিনাইদহ

প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১১:০০ এ এম
কৃষকের গোলায় বীজ নেই

শৈলকুপার হাজরামিনা গ্রামের কৃষক হাশেম আলীর ঘরে একসময় ধানের বীজ থাকতো। ভালো ফলন পাওয়া ধান থেকে বাছাই করে রাখা সেই বীজ দিয়েই পরের মৌসুমে জমিতে চাষ করতেন তিনি। এখন আর ঘরে সেই বীজ নেই। ৩৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে গিয়ে তাই ছুটতে হচ্ছে বাজারে। সরকারি বীজের আশায় বিএডিসির অনুমোদিত ডিলারের কাছে ঘুরেও প্রয়োজনীয় বীজ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত চড়া দামে কিনেছেন বেসরকারি কোম্পানির হাইব্রিড বীজ। এতে বেড়েছে তার উৎপাদন খরচ।

হাশেম আলীর মতো ঝিনাইদহের হাজার হাজার কৃষকের ঘর থেকেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে নিজেদের সংরক্ষণ করা বীজ। আগে ভালো ফসল থেকে বীজ বাছাই করে মাটির মটকা কিংবা বাঁশের গোলায় যত্ন করে রাখা হতো। সেই বীজ দিয়েই পরের মৌসুমে চাষ চলতো। এখন সেই জায়গা নিয়েছে বাজারের প্যাকেট। প্রতি মৌসুমে বীজ কিনতে গিয়ে কৃষক যেমন বাজারের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছেন, তেমনি বাড়ছে উৎপাদন খরচ ও ভেজাল বীজে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা।

উচ্চফলনের আশায় অনেক কৃষক এখন হাইব্রিড বীজের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু হাইব্রিড ধানের বীজ থেকে পরবর্তী মৌসুমে একই মানের বীজ সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা যায় না। ফলে, প্রতি মৌসুমেই নতুন করে বীজ কিনতে হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকের চাহিদার বিপরীতে বিএডিসি সরবরাহ করছে মাত্র ২০ শতাংশ বীজ। বড় অংশের চাহিদা পূরণ করছে বেসরকারি খাত। ফলে লাল তীর, এসিআই, বায়ারসহ বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির বীজের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে কৃষকদের।

শৈলকুপার কৃষক ওসমান আলী বলেন, একসময় গ্রামের বাড়িতে বীজ রাখতাম। এখন সব কিনে কাজ করছি। হাইব্রিড জাতের ফলন বেশি হওয়ায় বাড়িতে বীজ রাখি না।

অপর কৃষক মো. বাচ্চু বলেন, এখন হাইব্রিড জাতের ফলন বেশি, তাই বাড়িতে বীজ রাখি না, কিনে চাষ করি। হাইব্রিড ধানের বীজ কিনছি ৬০০ টাকা কেজি আর ধান বিক্রি করছি প্রতি মণ ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

সদর উপজেলা কৃষক জহুরুল বলেন, ‘বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে নতুন জাতের বীজের ফলন ভালো হবে- এমন ধারণায় বীজ সংরক্ষণ করেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাইনি। দেশি ধানের বীজ সংরক্ষণ করলে এখনও ফসল পাওয়া যায়। তবে বাজার থেকে কেনা বীজে অনেক সময় ভেজাল থাকে, তখন বিপদে পড়তে হয়।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে বীজ সংরক্ষণের পদ্ধতি দেখাচ্ছি। কৃষকরা বীজ সংরক্ষণ করছেন। পরবর্তীতে সেই সব কৃষকের কাছ থেকে অন্য কৃষক বীজ নিয়ে জমিতে রোপণ করছেন। কৃষকরা যেনো অন্যের বীজের ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করেন, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)