বিশেষ প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
(প্রথম পর্বের পর)
যশোরের ঐতিহাসিক চাঁচড়া দশমহাবিদ্যা মন্দির চত্বরে বসবাসকারী স্কুলছাত্রী শিপ্রা ঘোষের রহস্যজনক মৃত্যু, লাশ নিয়ে বিক্ষোভ এবং ইসকন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ গোটা জনপদে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে সুবর্ণভূমি দেখতে পেয়েছে মন্দিরটিতে ইসকনের বিতর্কিত অনুপ্রবেশ, মন্দিরের কার্যক্রম দখলে নেওয়াসহ বিষয়।
এই সংক্রান্ত বিষয়ে সুবর্ণভূমিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে উঠে এসেছিল শিপ্রার অকালমৃত্যুর নেপথ্য কারণ, উৎসবের বিতর্ক ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া। আজ দ্বিতীয় পর্বে থাকছে ইসকনের বিতর্কিত আধিপত্য বিস্তার, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, তিন পুরুষের অধিবাসীদের উচ্ছেদের চক্রান্ত, পুলিশের ভূমিকা এবং আর্থিক দুর্নীতির আড়ালের খবর।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় সনাতনিরা দশমহাবিদ্যা মন্দিরে অবাধে যাতায়াত ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিতেন। কিন্তু মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরপরই ইসকনের পুরোহিতরা প্রধান ফটক আটকে দেন। ফলে সাধারণ সনাতনিদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত হয়। শুধু পূজা-অর্চনার নির্ধারিত সময় ও উৎসবে গেট খোলা হয়। সর্বজনিন মন্দিরের ফটক কেন বন্ধ থাকবে—এই প্রশ্ন স্থানীয় সনাতনিদের। তাদের ধারণা, ভেতরে এমন কিছু হয়, যা সর্বসমক্ষে এলে সমস্যা হতে পারে।
অস্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার শিপ্রার বড় ভাই পাপন কুমার ঘোষ প্রেসক্লাব যশোরের সামনে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভকালে অভিযোগ করেন, মন্দিরটিতে নির্ধারিত নারীদের যাতায়াত আছে। ইসকনের কথিত সাধুরা তাদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ১০ থেকে ১৫ জন মেয়ে ও নারীকে নিয়ে তারা বিভিন্ন সময় ভারতে ভেগে গেছেন। তিনি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের হিন্দু ধর্মে দিক্ষিত করার অভিযোগও আনেন ইসকন ‘সাধুদের’ বিরুদ্ধে। যদিও অনুসন্ধানে এমন কোনো তথ্য সুবর্ণভূমি উদ্ধার করতে পারেনি।
আরেক হিন্দু নারী অভিযোগ করেন, ইসকনের লোকেরা মন্দিরটিতে এমন পরিবেশ তৈরি করেছেন যে, স্থানীয়রা খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি ইসকনের হাত থেকে মন্দিরটি উদ্ধারের দাবি জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক নারী অভিযোগ করেন, ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ এর আগেও কয়েক নারীর সাথে অসদাচরণ করেছেন। প্রতিবাদ করতে গেলে ‘মন্দিরে ঢুকতে দেবেন না’ বলেও হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
দশমহাবিদ্যা মন্দিরের কাছে একসময় বসবাস করতেন বিশ্বনাথ ঘোষ। মাছচাষি বিশ্বনাথ ইসকনের তৎপরতায় বিরক্ত হয়ে এই মন্দিরে পূজা-অর্চনার জন্য আর আসেন না। তার অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হলো, মসজিদে আজানের সময়ও ইসকন মন্দিরে উচ্চশব্দে বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয়; যা যেকোনো সময় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। অথচ এই এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে বসবাস করে আসছে।
বিশ্বনাথের অশীতিপর মা দশমহাবিদ্যা মন্দিরের পাশে একটি দোকানে বসে বলেন, ‘ইসকনের লোকেরা খারাপ। তারা এখানে ঝামেলা বাঁধাতে চায়। এতে আমরা বিপদে পড়বো।’
চাঁচড়া বাজার মোড়ের নরসুন্দর শ্যামল দাস বলেন, “মসজিদে আজানের সময় ইসকন মন্দিরে খোল-করতাল বাজায়। আশপাশের মুসলমানদের অনেকেই আমাকে বলেছে, ‘শ্যামল, ইসকন এই যে কাজগুলো করছে, তোমরা একটু দেখতে পারো না?’ আসলে আমি জানি না, ইসকন আসলে কী চায়।”
দশমহাবিদ্যা মন্দির চত্বরে কথা হয় অনুপমা ঘোষ নামে এক নারীর সাথে। তিনি বলেন, ‘আশপাশের মুসলিমরা আমাদের খুব ভালোবাসে। কিন্তু এখানে ইসকন আসার পর পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। খোল-করতাল বাজানোসহ এমন কিছু কাজ করছে যে, মুসলমানরা বিরক্ত হচ্ছে। ইসকনের কারণে আমরা সাধারণ হিন্দুরা যেকোনো সময় বিপদে পড়তে পারি।’
তবে মন্দিরের অধ্যক্ষ ইসকন নেতা অনুপম রায় ওরফে অপার গোবিন্দ দাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। অজ্ঞাত স্থান থেকে তিনি সুবর্ণভূমিকে টেলিফোনে বলেন, ‘মন্দিরে সবার প্রবেশাধিকার আছে। এখানে শুধু মৃদঙ্গ আর করতাল বাজানো হয়। এতে মুসলমানদের কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা না।’
পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন বলেন, ওই মন্দিরে আমি যতবার গেছি, সবসময় গেট খোলা পেয়েছি। ইসকনের ‘সাধুরা’ ভালো মানুষ।
প্রসঙ্গত, ব্রহ্মচারী হিসেবে ইসকন ‘সাধুদের’ পরিচিতি আছে। ব্রহ্মচারী তিনিই, যিনি কামনা-বাসনা ও ইন্দ্রিয়সুখ থেকে দূরে থাকেন এবং ব্রহ্মচর্যব্রত পালন করেন।
মন্দির গ্রাসের চেষ্টা
স্থানীয়রা জানান, এখন থেকে প্রায় এক যুগ আগে দশমহাবিদ্যা মন্দিরের একটি অংশ ধসে পড়ে দুই ভাই নিহত হন। তাদের মধ্যে একজনের নাম নিরদ কুমার ঘোষ। স্বামীকে হারিয়ে নিরদের স্ত্রী (সম্প্রতি মৃত শিপ্রার মা) মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মন্দিরের কাজে তিনি সহযোগিতা করেন, নিয়মিত পূজা-অর্চনা চলায় সেখানে প্রসাদের আশায়ও যান। কিন্তু মন্দিরের অধ্যক্ষ অপার গোবিন্দ দাস তাকে কোনোমতেই প্রসাদ দিতে রাজি নন। এ নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে ওই নারীর বিবাদ নিত্যদিনের। যেদিন কিশোরী শিপ্রার অপমৃত্যু হয়, সেদিনও তার মায়ের সঙ্গে অধ্যক্ষের বিবাদ, ঢিল ছোড়াছুড়িও হয়। পরে মন্দিরের অধ্যক্ষের নির্দেশে মাকে ঘরে এনে শেকল আটকে দেয় শিপ্রা।
মন্দির চত্বরে বসবাসকারী অন্যদের সঙ্গে ইসকনের ‘সাধুদের’ বিবাদও নিত্যদিনের ঘটনা। বাসিন্দাদের অভিমত, তাদের উচ্ছেদের জন্য ইসকনের লোকেরা পরিকল্পিতভাবে পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেন।
ঐতিহাসিক দশমহাবিদ্যা মন্দিরের জীর্ণ অবস্থার সুযোগ নিয়ে এখানে ইসকনের অনুপ্রবেশ ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। ইসকন আসার সময় মন্দির চত্বরে দশ ঘরের মতো সনাতনি বসবাস করতেন। তারা সবাই নিম্নবিত্ত। অধ্যক্ষ অপার গোবিন্দ দাসের নেতৃত্বে মন্দিরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর ইসকন ধীরে ধীরে চত্বর থেকে বাসিন্দাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করতে থাকেন। এর জন্য অধ্যক্ষ ও তার অনুচর কথিত সাধুরা তাদের সঙ্গে দিনের পর দিন দুর্ব্যবহার করে আসছেন বলে সেখানে অবস্থানরত মৌসুমি ঘোষসহ সনাতনিদের অভিযোগ।
মৌসুমির ভাষ্য, ‘আমাদের ধর্মেরই তো গুরু। তাই অনেক কিছু প্রকাশ্যে বলতে পারি না। কিন্তু তাদের (ইসকন নেতাদের) আচরণ মেনেও নেওয়া যায় না।’
চত্বর খালি করে দশমহাবিদ্যা মন্দিরের পূর্ণতা দেওয়া হবে বলে পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন বেসরকারি চাকুরে দীপ কুমার দে নামে এক যুবক; যিনি চার বছর বয়স থেকে ইসকনের সান্নিধ্যে আছেন। বংশপরম্পরায় বসবাসকারীদের কেন উচ্ছেদ করতে হবে—এমন প্রশ্নে এই ব্যক্তি বলেন, ‘ওরা হাঁস-মুরগি পোষে। ইসকন অনুসারীরা নিরামিশাষী। জীব হত্যা বা হাঁস-মুরগি খাওয়া নিষেধ।’
যদিও এই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক যে বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করেন, তাদের তৈরি করা কীটনাশকে প্রাণ-প্রকৃতি উজাড় হতে চলেছে।
কাপড়ের দোকানের কর্মচারী পাপন কুমার ঘোষ বলেন, এখানে দশ ঘরের বসবাস ছিল। ইসকন আসার পর লালু শীল, সদা শীল, শ্যামল সরকার—এই তিন ঘর উচ্ছেদ হয়েছে। বাকিদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট (মন্দিরের অধ্যক্ষ ও ইসকন নেতা অপার গোবিন্দ দাসকে স্থানীয়ভাবে ‘প্রেসিডেন্ট’ বলা হয়)।
উচ্ছেদ হওয়া শ্যামল সরকার সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমার পুত্রবধূ ছিল সন্তানসম্ভবা। বর্ষায় ঘরে পানি উঠতো। এমন অবস্থায় আমি কিছুদিনের জন্য পরিবার নিয়ে বাইরে এসে ভাড়া বাসায় উঠি। ফিরে গিয়ে দেখি আমার ঘর উচ্ছেদ হয়ে গেছে। সেখানে তড়িঘড়ি করে রথ স্থাপন করা হয়েছে।’
মন্দির চত্বরে অবস্থানকারীরা বলছেন, ব্রাহ্মণরা বিদায় নেওয়ার পর এখানে তাদের তিন পুরুষের (৬০ থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত) বাস। এখন তাদের উচ্ছেদ করার জন্য ইসকনের ‘সাধুরা’ উঠেপড়ে লেগেছেন। ইসকনের অর্থ ও প্রভাবের মুখে এই গরিবেরা টিকতে পারবেন না জেনে কেউ কেউ বাইরে জমি কেনার চেষ্টা করছেন বলে স্বীকার করেন। তবে তারা মন্দির চত্বরেই থাকতে চান। একান্তই না পারলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি করেন।
মন্দির চত্বরে বসবাসকারী অনুপমা ঘোষ বলেন, ‘আমাদের উঠাতে পারলেই তো পুরো মন্দিরটা ইসকন দখল করে নিতে পারবে।’
অভিযোগ যথারীতি অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ অপার গোবিন্দ দাস। তিনি বলেন, বাসিন্দাদের কেউ কেউ স্বেচ্ছায় চলে গেছে। অন্যরা চলে যেতে চাইলে বাধা নেই।
একইসঙ্গে তিনি মন্দির সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান। বলেন, ‘৫ আগস্টের পর... বোঝেনই তো... কাজ একটু থমকে গেছে।’
৫ আগস্টের পটপরিবর্তন একান্তই রাজনৈতিক। এর সঙ্গে ধর্ম বা মন্দিরের সম্পর্ক কী জানতে চাইলে অপার গোবিন্দ বলেন, ‘না মানে... ৫ আগস্টের পর ইসকন নিয়ে তো অনেক বিতর্ক হচ্ছে... এই আর কী!’

‘অপার গোবিন্দ ধুরন্ধর, মিথ্যাবাদী, প্রতারক’
মন্দিরের গা-ঢাকা দেওয়া অধ্যক্ষ অনুপম রায় ওরফে অপার গোবিন্দ দাস কোথাকার মানুষ, তা কেউ জানে না। তার সম্বন্ধে স্থানীয় মানুষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা কেমন তা জানার চেষ্টা করে সুবর্ণভূমি। হিন্দু-মুসলিমনির্বিশেষে অধিকাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তার আচার-আচরণ যথেষ্ট খারাপ। তার কাজ-কর্মও রহস্যময়। আর্থিক ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।
মন্দির চত্বরে বসবাসকারী একাধিক নারী-পুরুষ জানিয়েছেন, এখানে নারীঘটিত বেশকিছু ঘটনা ঘটিয়েছেন ইসকনের ‘সাধুরা’। আর্থিক বিষয়াদি নিয়েও অভিযোগ আছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ দত্তের ভাষায়, ‘‘এই অপার গোবিন্দ লোকটা খুব একটা সুবিধের না। আমার জানা মতে, এখানে ভক্তরা লাখ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে। এসব অনুদান নিয়ে সে কোনো কাজ করেনি। অথচ অধ্যক্ষ বলে, ‘অমুক দিয়েছে, তমুক দিয়েছে।’’
‘মন্দিরের জন্য একটা অনুদান পাইছিলাম ডিসি অফিস থেকে ৮০ হাজার টাকা। আমাদের অ্যাকাউন্টে সেই টাকা আসবে। পরে শুনতে পারি যে, ওই টাকা অপার গোবিন্দ নিয়ে গেছে। সেই টাকারও হিসেব পাইনি। লোকটা অসম্ভব ধুরন্ধর, মিথ্যাবাদী, প্রতারক,’ বলেন মন্দির কমিটির সভাপতি।
অবশ্য পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতির মতে, অধ্যক্ষ অপার গোবিন্দ খুবই ভদ্র ও বিনয়ী।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ‘যৌন হয়রানির’ অভিযোগ নেয়নি পুলিশ
কিশোরী শিপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই পাপন ঘোষ দশমহাবিদ্যা মন্দিরের অধ্যক্ষ অপার গোবিন্দ দাস, অর্জুন দাস, পার্থ দাস, পবিত্র এবং অজ্ঞাত আরও সাতজনকে অভিযুক্ত করে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগপত্রে উল্লিখিত ব্যক্তিদের দ্বারা ঘটনার দিনসহ বিভিন্ন সময় শিপ্রা যৌন হয়রানি, অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ ছাড়াও তার মাকে শারীরিকভাবে আক্রমণের অভিযোগ আনা হয়। এসব কারণে শিপ্রা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে থানা পুলিশ সেই অভিযোগ গ্রহণ করেনি।
অভিযোগকারী পাপন ঘোষ বলছেন, তাদের লিখিত অভিযোগপত্র তিন দফা সংশোধনের পর থানা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে। গৃহীত অভিযোগপত্রে উল্লিখিত বিষয়াদি বাদ দিয়ে বলা হয়েছে, তার বোন ‘ব্যক্তিগত কারণে মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ও অসহায় হয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’
পাপন ঘোষের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন। তিনি দাবি করেন, তারা যে অভিযোগপত্র পেয়েছেন, তা-ই গ্রহণ করা হয়েছে। এখন তারা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার জন্য অপেক্ষা করছেন।
তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণের কোনো সুযোগ নেই বলে সুবর্ণভূমিকে জানান যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুস সাদিক। ধর্ষণ বা এমন কোনো এক্সট্রিম ঘটনা ঘটলে তা ময়নাতদন্ত বা ভিসেরা রিপোর্টে আসার সুযোগ আছে বলে তিনি জানান।
এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ও জেলা পুলিশের মুখপাত্র মো. মিরাজুল ইসলাম সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘ইসকনের প্রভাব আছে, সত্য। কিন্তু ন্যায়ের প্রভাব তার চেয়ে বেশি। যদি এই মৃত্যুর ব্যাপারে কেউ অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হন, তিনি যত বড় ক্ষমতাশালীই হন না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না।’
একই সুরে কথা বলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।
তদন্ত করছে রাইটস যশোর
শিপ্রা ঘোষের মৃত্যুর বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করছে মানবাধিকার সংস্থা রাইটস যশোর। এ লক্ষ্যে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটু, প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, সহসভাপতি সরোয়ার হোসেন এবং মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট তাহমিদ আকাশ।