যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

দাম বাড়ে ডিজেলের, বাড়ে না ফসলের

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জুয়েল

, ঝিনাইদহ

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১০:০০ এ এম
দাম বাড়ে ডিজেলের, বাড়ে না ফসলের

ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় নতুন করে উৎপাদন খরচের চাপে পড়েছেন ঝিনাইদহের কৃষকরা।

জমি চাষ থেকে শুরু করে সেচ, ধান কাটা মাড়াই এবং ফসল বাজারে নেওয়া কৃষিকাজের প্রায় প্রতিটি ধাপেই জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়।

ফলে, ডিজেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে কৃষকের খরচও। তবে সেই তুলনায় বাড়ছে না কৃষকের উৎপাদিত ফসলের দাম।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন, বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে সেচ দিতে ডিজেলচালিত শ্যালো ও গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হয়। জমি চাষে ট্রাক্টর, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র এবং ফসল পরিবহনের ক্ষেত্রেও জ্বালানি তেল লাগে। তাই ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ছে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালা গ্রামের কৃষক বাবুল লস্কার চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সারাদিন মাঠে কাজ করার পর রাতে দোকানে বসে শুনলাম, তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বেড়েছে। এমন খবরের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।’

বাবুল বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে একবার সেচ দিতে তার তিন থেকে পাঁচ লিটার পর্যন্ত ডিজেল লাগে। মৌসুমে কতবার সেচ দিতে হবে, তারও ঠিক নেই। এর সঙ্গে জমি চাষ, শ্রমিকের মজুরি, সার ও পরিবহন খরচ রয়েছে। এসব খরচও বাড়ছে।

হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কিসমত ঘোড়াগাছা গ্রামের কৃষক মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে কৃষকের ওপর। চাষে সেচের খরচই বড় একটি ব্যয়।

তার হিসাবে, আগে প্রতি বিঘা জমিতে সেচে প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ হতো। ডিজেলের দাম বাড়ায় সেই খরচ প্রায় দশ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। অন্যের শ্যালো মেশিন ব্যবহার করলে খরচ আরও প্রায় দুই হাজার টাকা বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, গত দুই মৌসুম ধরে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে লোকসানে বিক্রি করতে হয়েছে। এখন আবার উৎপাদন খরচ বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। এভাবে খরচ বাড়তে থাকলে অনেক কৃষক চাষাবাদ কমিয়ে দিতে বাধ্য হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলার কাশীপাড়ার কৃষক মুক্তার বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব এখনই কৃষকের ঘাড়ে এসে পড়েছে। উৎপাদন খরচ আরও বাড়লে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব বাজারেও পড়বে। তবে কৃষকরা যাতে উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম পান, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।

কৃষকরা বলছেন, সবকিছুর দাম বাড়ছে, কিন্তু কৃষকের ফসলের দাম সেইভাবে বাড়ছে না। মাঠে কাজ করা শ্রমিককে তিন বেলা খাবারসহ প্রতিদিন ৭০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। সারও সব সময় ঠিকমতো পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে এক মণ ধান প্রায় এক হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ধানের দাম মণপ্রতি দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা হলে কৃষক কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)